প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত ও শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে শিক্ষক প্রশিক্ষণের সময়কাল আড়াই থেকে তিন বছর করার পরিকল্পনা করছে সরকার। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, পাশাপাশি প্রতিটি প্রাইমারি ট্রেনিং ইন্সটিটিউটের (পিটিআই) সক্ষমতা ৬ গুণ বাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ সাক্ষাৎকারে শিক্ষার মান, নতুন নিয়োগ ও পদোন্নতি, ক্লাসরুমে প্রযুক্তির ব্যবহার এবং শিক্ষার্থীদের জন্য মিড-ডে মিলসহ নানা নীতিগত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রশিক্ষণে নতুন ফ্রেমওয়ার্ক ও পিটিআই সক্ষমতা
শিক্ষকদের অপ্রশিক্ষিত অবস্থায় দীর্ঘদিন ক্লাসরুমে দায়িত্ব পালনের ধারা বন্ধে নতুন ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষকরা প্রথমে পিটিআইতে দুই মাস ইন-ক্যাম্পাস প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে ক্লাসে ফিরে যাবেন এবং পরবর্তী আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে বাকি মডিউল ও পরীক্ষা শেষ করবেন। বর্তমানে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) এক বছরের একটি মডিউল চূড়ান্ত করেছে, যেখানে ২ মাস ইন-ক্যাম্পাস এবং বাকি ১০ মাস অনলাইন-অফলাইনে সম্পন্ন করতে হবে। পিটিআইয়ের প্রশিক্ষণ সক্ষমতা ৭ হাজার থেকে ৪২ হাজারে উন্নীত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এডুকেশন ডিপার্টমেন্টকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আগামী বছর থেকে সারাদেশে ‘মিড-ডে মিল’
শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতে ‘মিড-ডে মিল’ কর্মসূচির পরিধি বাড়ানোর কাজ চলছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের ১৫০টি উপজেলায় চালু থাকা এ কর্মসূচি দ্রুত বাকি এলাকাগুলোতেও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত প্রকল্প প্রস্তাবনার কাজ চলছে এবং ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ শিশুর জন্য পুষ্টিকর দুপুরের খাবার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ ও ডিজিটাল রূপান্তর
শিক্ষকদের প্রযুক্তিতে দক্ষ করতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ ও ‘স্মার্ট ক্লাসরুম’ কেবল ডিভাইস দেওয়ার প্রকল্প নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম। গুগলসহ বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এ ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে, যার মূল মাধ্যম হিসেবে শিক্ষকরা ট্যাব পাবেন। পাশাপাশি বিদ্যুৎহীন দুর্গম অঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে সোলার প্যানেল স্থাপন ও ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিতের কাজ চলছে।
দ্রুত প্রধান শিক্ষক পদোন্নতি ও নতুন নিয়োগ
প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণে আইনি জটিলতা নিরসন হয়েছে এবং আদালতের রায়ের সার্টিফাইড কপি পেলেই পদোন্নতি প্রক্রিয়া শুরু করবে পিএসসি। প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি সম্পন্ন হলে সহকারী শিক্ষক পদে বড় ধরনের নতুন নিয়োগের পথ উন্মুক্ত হবে।
শিক্ষাক্রম সংস্কার ও দুর্গম এলাকায় বিশেষ সুবিধা
শিক্ষার্থীদের ওপর থেকে বইয়ের বোঝা কমিয়ে আনন্দদায়ক শিক্ষা, গল্প বলা এবং গণিত-বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড অন্তর্ভুক্ত করতে এনসিটিবিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাওর, চর ও দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষকদের জন্য বিশেষ ভাতা এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াত কষ্ট কমাতে আবাসিক বা রেসিডেন্সিয়াল স্কুল ব্যবস্থা চালুর নীতিগত ভাবনা সরকারের রয়েছে।