জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও এসআইআর বাতিলের দাবিতে দিল্লিতে বাম ও কংগ্রেসের ছাত্র-যুব সংগঠনের বিক্ষোভ, আটক একাধিক আন্দোলনকারী; দুই সিজেপি নেতার কারাবাসের প্রতিবাদে রাহুল গান্ধী ও অভিজিৎ দীপকের বক্তব্যে রাজনৈতিক সমন্বয়ের ইঙ্গিত
ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে দিল্লিতে বিরোধীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। বুধবারও রাজধানীর যন্তর মন্তর অভিমুখে মিছিল করেছেন বামপন্থী ও কংগ্রেসের ছাত্র-যুব সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তবে মিছিলকারীদের বেশি দূর এগোতে দেয়নি পুলিশ। কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে।
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পাঁচ দিনের জন্য কারা হেফাজতে পাঠানোর ঘটনায় বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপক এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৃথকভাবে এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন।
রাহুল গান্ধী ও অভিজিৎ দীপক দুজনই বলেছেন, তাঁদের আন্দোলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অভিন্ন। তাঁদের বক্তব্যে সিইসিবিরোধী আন্দোলনে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট এবং সিজেপির মধ্যে সমন্বয়ের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সিজেপি নিজেকে রাজনৈতিক দল নয়, বরং একটি নিরপেক্ষ চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে তুলে ধরেছে। ফলে দুই পক্ষের দাবিতে মিল থাকলেও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে যৌথ কর্মসূচিতে যাবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
যন্তর মন্তর অভিমুখে বাম ও কংগ্রেসের মিছিল
বুধবার দুপুরে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) বা সিপিএমের ছাত্রসংগঠন এসএফআই এবং যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআইয়ের নেতা-কর্মীরা ফিরোজ শাহ রোড থেকে মিছিল শুরু করেন। প্রায় একই সময়ে কংগ্রেসের ছাত্রসংগঠন এনএসইউআই ও যুব কংগ্রেসের কর্মীরা প্যাটেল চক মেট্রোস্টেশনের সামনে থেকে যন্তর মন্তরের দিকে মিছিল বের করেন।
মিছিলকারীরা কিছুটা এগোতেই পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার কাছে পুলিশ তাঁদের পথ আটকে দেয়। এ সময় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তি হয়। পরে আন্দোলনকারীদের কয়েকজনকে বাসে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ।
ফিরোজ শাহ রোড থেকে আটক করা হয় সিপিএমের রাজ্যসভার সদস্য ভি শিবদাসনকেও। আন্দোলনকারীদের দাবি, সিইসির পদত্যাগ এবং এসআইআর বাতিলের দাবিতে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানাতেই তাঁরা রাস্তায় নেমেছিলেন।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়ার ফলে ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের মতে, এ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে।
এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ
ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরকে কেন্দ্র করেই বিরোধীদের বর্তমান আন্দোলন। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ পড়েছে এবং এতে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) রাজনৈতিকভাবে সুবিধা পেতে পারে। বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে মুসলিমরাও রয়েছেন বলে বিরোধী নেতারা দাবি করেছেন।
এসআইআর প্রক্রিয়ার কারিগরি ত্রুটি, তথ্য যাচাইয়ের পদ্ধতি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির। তাদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় কোনো যোগ্য ভোটারের নাম যেন অন্যায়ভাবে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে দুজন সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের নেওয়া একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। ভারতের নির্বাচন কমিশন তিন সদস্যের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, যেখানে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো সিইসির পদত্যাগের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে। দিল্লির বিভিন্ন স্থানে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে হোর্ডিংও টাঙিয়েছে কংগ্রেস।
তবে এসআইআরের আওতায় বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা, তাঁদের নাম বাদ দেওয়ার কারণ এবং এর ফলে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল কতটা সুবিধা পেয়েছে—এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য নির্বাচন কমিশনের তথ্য ও স্বাধীন যাচাই প্রয়োজন। বিরোধীদের অভিযোগকে তাই রাজনৈতিক দাবি হিসেবে বিবেচনা করার পাশাপাশি প্রক্রিয়াটির বাস্তব ফলাফলও খতিয়ে দেখা জরুরি।
পাঁচ দিনের কারা হেফাজতে সিজেপির দুই নেতা
সিজেপির দুই নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পাঁচ দিনের কারা হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার যন্তর মন্তর এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়েছিল। দিল্লি পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মন্দির মার্গ থানা এলাকার একজন ম্যাজিস্ট্রেট তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশের অভিযোগ, দুই নেতা মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ করে যন্তর মন্তরে প্রবেশ করেছিলেন এবং সেখানে শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছিলেন। তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হলে আবারও অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে—এমন যুক্তি দেখিয়ে তাঁদের হেফাজতে রাখার আবেদন জানায় পুলিশ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আশুতোষ ও সৌরভকে তিহার জেলে পৃথক সেলে রাখা হয়েছে। তাঁদের আটক ও কারা হেফাজতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সিজেপি নেতারা সরব হয়েছেন।
সিজেপির বক্তব্য, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে তাঁদের নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশ যে অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে, তার পূর্ণ বিবরণ ও আদালতের আদেশের বিস্তারিত জানা গেলে ঘটনাটির আইনি দিক আরও স্পষ্ট হবে।
রাহুল গান্ধীর সমালোচনা, আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার ঘোষণা
সিজেপির দুই নেতাকে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বুধবার সকালে তিনি বলেন, যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়। এ কারণে তরুণদের কারাগারে পাঠানোকে তিনি কাপুরুষতার লক্ষণ বলে মন্তব্য করেন।
রাহুলের বক্তব্যে আন্দোলনকারী বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে অভিন্ন দাবির বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে। তিনি বলেন, ছাত্র, তরুণ, সাংবাদিক ও ইন্ডিয়া জোটের ব্যানার আলাদা হতে পারে, কিন্তু তাঁদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক।
রাহুলের এই মন্তব্যকে সিজেপি ও ইন্ডিয়া জোটের মধ্যে রাজনৈতিক দূরত্ব কমার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, সিইসির পদত্যাগ ও এসআইআর বাতিলের দাবিতে দুই পক্ষই সরব হলেও এত দিন তাদের কর্মসূচি আলাদা ছিল।
রাহুলের বক্তব্যে আন্দোলনের বৃহত্তর ঐক্যের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে বক্তব্যের ভিত্তিতে দুই পক্ষের মধ্যে আনুষ্ঠানিক জোট বা যৌথ কর্মসূচির সিদ্ধান্ত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
অভিজিৎ দীপকের প্রশ্ন, ‘ওদের অপরাধ কী?’
সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকও দুই নেতাকে কারা হেফাজতে পাঠানোর সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন। বুধবার সকালে নাগপুর থেকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি প্রশ্ন করেন, যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করাই কি তাঁদের অপরাধ?
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে অভিজিৎ বলেন, সরকার যদি ভিন্নমত দমনে এতটাই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়, তবে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করুক। তাঁর অভিযোগ, সরকার কৌশলের আড়ালে থেকে প্রতিবাদ দমনের চেষ্টা করছে।
পরে দিল্লিতে এসে অভিজিৎ বলেন, জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনায় আশুতোষ ও সৌরভকে কারাগারে পাঠানোর মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের দমনমূলক আচরণের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান সরকারও বিরোধী কণ্ঠ দমনে একই ধরনের আচরণ করছে।
এগুলো অভিজিৎ দীপকের রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ। সরকার বা দিল্লি পুলিশের অবস্থান এবং আদালতের আদেশের পূর্ণ বিবরণ পাশাপাশি বিবেচনা করলেই ঘটনাটির সামগ্রিক চিত্র পাওয়া যাবে।
সিজেপি ও ইন্ডিয়া জোট কি যৌথ আন্দোলনে যাবে?
সিইসির পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি ও ইন্ডিয়া জোটের পৃথক কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগে থেকেই প্রশ্ন ছিল। দুই নেতাকে কারা হেফাজতে পাঠানোর পর রাহুল গান্ধী ও অভিজিৎ দীপকের বক্তব্যে আন্দোলনের দাবির মিল আরও স্পষ্ট হয়েছে।
নাগপুরে অভিজিৎকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এক হলে সিজেপি ও ইন্ডিয়া জোট কেন যৌথভাবে আন্দোলন করছে না। জবাবে তিনি বলেন, দুই পক্ষের লক্ষ্য এক হলেও তাদের সাংগঠনিক পরিচয় আলাদা। ইন্ডিয়া জোট একটি রাজনৈতিক জোট; অন্যদিকে সিজেপি নিজেকে নিরপেক্ষ চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে।
অভিজিৎ বলেন, সিজেপি রাজনৈতিক দল নয় এবং তারা নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখতে চায়। তবে এর অর্থ এই নয় যে তারা ইন্ডিয়া জোটের বিরোধী।
এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, সিজেপি বিরোধী জোটের সঙ্গে দাবির বিষয়ে একমত হলেও নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় ধরে রাখতে আগ্রহী। ফলে ভবিষ্যতে যৌথ কর্মসূচি হলেও তা কী ধরনের হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আলোচনায় তাই দুটি বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে—একদিকে সিইসির পদত্যাগ ও এসআইআর বাতিলের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার সম্ভাবনা, অন্যদিকে সিজেপির নিরপেক্ষ চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে নিজেদের পরিচয় বজায় রাখার অবস্থান।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংহতি
সিজেপির দুই নেতাকে কারাগারে পাঠানোর সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের দিদি তোমাদের সঙ্গে আছে। চিরকাল থাকবেও।’
মমতার এই বক্তব্যকে আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে তাঁর বক্তব্যের পর সিজেপি, কংগ্রেস ও তৃণমূলের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেই।
বিরোধী দলগুলোর মধ্যে এসআইআরবিরোধী অবস্থান ও সিইসির পদত্যাগের দাবি একটি অভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করেছে। তবে এই অভিন্নতা কতটা সাংগঠনিক ঐক্যে রূপ নেবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ও দলগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর।
রাহুলের চা-চক্রে নাগরিক সমাজ ও ছাত্রনেতারা
এর আগে মঙ্গলবার নিজের বাসভবনে আয়োজিত এক চা-চক্রে ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, আন্দোলনকর্মী এবং বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা-নেত্রীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। সেখানে বামপন্থী নেত্রী নেহা বোরা ও ঐশী ঘোষসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আমন্ত্রণপত্রে রাহুল জানিয়েছিলেন, তাঁদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও আন্দোলন অভিন্ন। তিনি যন্তর মন্তরকে জনগণের প্রতিবাদের জায়গা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই স্থান জনগণের কাছেই ফিরিয়ে আনা হবে।
চা-চক্রে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি সিইসিবিরোধী আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি ছাত্রসংগঠন, তরুণ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের যুক্ত করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে এক বৈঠকে বিভিন্ন পক্ষের অংশগ্রহণকে স্থায়ী রাজনৈতিক সমন্বয় হিসেবে বিবেচনা করার আগে তাদের পরবর্তী কর্মসূচি ও যৌথ সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
পুলিশের হাতে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ধরলেন তরুণেরা
বুধবার জনপথে সোনিয়া গান্ধীর বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী পুলিশের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করা কয়েকজন তরুণ-তরুণীকে সামনে আনেন। তাঁরা সিইসিবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পর আটক হওয়ার সময় তাঁদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হয়েছিল, সে বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
রাহুল তাঁদের নির্যাতনের অভিযোগসংক্রান্ত ভিডিও ও অন্যান্য প্রমাণ সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেন। প্রতিটি প্রমাণ তাঁর কাছে পাঠানোর আহ্বানও জানান তিনি।
রাহুল বলেন, আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য একদিন পূরণ হবে এবং এরপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তাঁদের কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, সিইসি জ্ঞানেশ কুমার থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার কথা বলেন তিনি।
পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে তদন্ত করে দেখা জরুরি। অভিযোগের পক্ষে ভিডিও, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি, প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য এবং আটক-সংক্রান্ত রেকর্ড থাকলে তা ঘটনার প্রকৃতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও জানা প্রয়োজন।
আন্দোলনের পরবর্তী দিক কোন পথে?
সিইসির পদত্যাগ ও এসআইআর বাতিলের দাবিতে দিল্লিতে চলমান আন্দোলন এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমত, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের জবাবে নির্বাচন কমিশন কী ব্যাখ্যা দেয়। দ্বিতীয়ত, আন্দোলনকারীদের আটক ও কারা হেফাজতে পাঠানোর ঘটনাগুলো নিয়ে আইনি প্রক্রিয়া কীভাবে এগোয়। তৃতীয়ত, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট এবং সিজেপি নিজেদের পৃথক সাংগঠনিক পরিচয় বজায় রেখেও কোনো যৌথ কর্মসূচিতে অংশ নেয় কি না।
রাহুল গান্ধী ও অভিজিৎ দীপকের বক্তব্যে আন্দোলনের লক্ষ্য নিয়ে মিল স্পষ্ট হলেও সিজেপি নিজেদের রাজনৈতিক দল নয়, নিরপেক্ষ চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। অন্যদিকে কংগ্রেস আন্দোলনকে রাজনৈতিক জোটের বাইরে ছাত্র, তরুণ ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণে বিস্তৃত করতে চাইছে বলে তাদের সাম্প্রতিক কর্মসূচি থেকে ধারণা পাওয়া যায়।
ফলে এখনই কংগ্রেস ও সিজেপি একসঙ্গে মাঠে নামবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। তবে এসআইআর প্রক্রিয়া ও সিইসির ভূমিকা নিয়ে চলমান বিরোধ দুই পক্ষকে একই ইস্যুতে কাছাকাছি এনেছে। ভবিষ্যতে তাদের কর্মসূচি, আলোচনার ধরন এবং আনুষ্ঠানিক ঘোষণাই নির্ধারণ করবে এই অভিন্ন দাবির ভিত্তিতে কতটা সমন্বয় গড়ে ওঠে।