অলিগলিতে পুলিশের মাইকিং ও কঠোর টহল
রাজধানীর মিরপুর এলাকায় পোশাকশ্রমিকদের চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের বিশেষ তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল থেকেই পুলিশ সদস্যরা মিরপুর-১১ নম্বরসহ আশপাশের বিভিন্ন অলিগলিতে ঘুরে ঘুরে হ্যান্ডমাইকে আন্দোলনকারীদের রাস্তায় না নামার আকুল আহ্বান জানান। এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক সশরীরে টহল জোরদার করা হয়েছে।

পুলিশ-শ্রমিক দফায় দফায় সংঘর্ষ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ
মাইকিং ও বাধার সত্ত্বেও আন্দোলনরত শ্রমিকরা রাস্তায় অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একাধিক স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে টিয়ারশেল এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে দেখা যায়। সংঘর্ষ চলাকালে আন্দোলনকারী শ্রমিকদের একাংশকে পুলিশের ওপর চড়াও হওয়া এবং হামলায় জড়িয়ে পড়তে দেখেন স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা।

বিজ্ঞাপন · inarticle_1

গ্রেপ্তার অভিযান ও থমথমে পরিবেশ
সংঘর্ষের সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও সংহিসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজনকে ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে প্রাথমিক তদন্ত ও অভিযান চলমান থাকায় এখন পর্যন্ত ঠিক কতজনকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। এই সংঘাত ও অভিযানের পর থেকে পুরো মিরপুর এলাকা জুড়ে চরম আতঙ্ক ও এক থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

যান চলাচল ও স্থানীয় জীবনযাত্রায় প্রভাব
সকাল থেকেই মিরপুরের প্রধান সড়ক ও গলিপথগুলোতে দফায় দফায় সংঘর্ষের কারণে সাধারণ পথচারী ও যানবাহন চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটে। অনেক দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং মানুষ আশ্রয়ের জন্য দিকবিদিক ছুটতে থাকে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তারা মাঠে সতর্ক অবস্থানে থাকবে।