‘রূপপুর থেকে রূপান্তর’—এই প্রতিপাদ্য সামনে রেখে দেশে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের পথে আরেকটি বড় ধাপ অতিক্রম করল বাংলাদেশ। পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিতে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরেনিয়াম জ্বালানি প্রবেশ শুরু হয়েছে।
কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে মঙ্গলবার বিকেলে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানি প্রবেশের পর বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে প্রায় সাড়ে তিন মাস সময় লাগবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগস্টের শেষ দিকে পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে। আর পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা আগামী বছরের মার্চ বা এপ্রিলের দিকে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, পারমাণবিক প্রকল্পে নিরাপত্তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই প্রতিটি ধাপ সম্পন্ন করা হচ্ছে এবং সেই অনুযায়ীই জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
দেশের সবচেয়ে বড় একক অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন। রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের সহায়তায় এখানে ১,২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রকল্পে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে প্রায় ৩০ হাজার কর্মী কাজ করছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিদেশি বিশেষজ্ঞ রয়েছেন।
অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রতীকী বোতাম চাপার মাধ্যমে জ্বালানি প্রবেশ প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বের পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় নতুনভাবে যুক্ত হলো।
প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, এই প্রকল্প শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় প্রকল্পটি নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে এগোচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান এবং নিরাপদ পারমাণবিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত পারমাণবিক সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ জানান, সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকল্পটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। আগামী বছর দ্বিতীয় ইউনিটেও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারাও এই অগ্রগতিতে আশাবাদী। দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি চালুর অপেক্ষায় থাকা মানুষ এখন দ্রুত বিদ্যুৎ পাওয়ার আশা করছেন।
উল্লেখ্য, প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে। ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ব্যয় বেড়ে গেলেও চুক্তি অনুযায়ী মোট ব্যয় নির্ধারিত সীমার মধ্যেই রাখা হয়েছে।