স্পেন ৪-০ সৌদি আরব
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত গোলশূন্য ড্রয়ের পর সমালোচনার মুখে পড়েছিল স্পেন। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই নিজেদের সামর্থ্যের ঝলক দেখিয়ে দিল ইউরোপের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে সৌদি আরবকে ৪-০ গোলে হারিয়ে স্পেন জানিয়ে দিল, শিরোপার লড়াইয়ে তারা অন্যতম বড় দাবিদার।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখে স্পেন। রক্ষণাত্মক কৌশলে খেলা সৌদি আরব ৫-৪-১ বিন্যাসে মাঠে নামলেও স্প্যানিশদের আক্রমণ সামলাতে পারেনি। প্রথম ২৪ মিনিটেই তিন গোল হজম করে কার্যত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে মধ্যপ্রাচ্যের দলটি।
১০ মিনিটে স্পেনকে এগিয়ে দেন তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল। বাঁ দিক থেকে মিকেল ওইয়ারসাবালের নিচু ক্রসে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলটি করেন তিনি।
২১ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান ওইয়ারসাবাল। কর্নার থেকে সৃষ্ট সুযোগে এমেরিক লাপোর্তের স্পর্শের পর বল পেয়ে কাছ থেকে জালে পাঠান স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড। মাত্র তিন মিনিট পর আবারও গোল করেন তিনি। মার্ক কুকুরেয়ার ক্রস থেকে দানি ওলমোর হেড পেয়ে দুর্দান্ত শটে নিজের দ্বিতীয় গোল পূর্ণ করেন।
প্রথমার্ধে হ্যাটট্রিকেরও সুযোগ ছিল ওইয়ারসাবালের। তবে ৩৬ মিনিটে তাঁর বাঁ পায়ের শট ক্রসবারে আঘাত করে ফিরে আসে। মাঝমাঠে রদ্রির নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সও স্পেনের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় বড় ভূমিকা রাখে।
বিরতির পর কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ইয়ামাল ও ওইয়ারসাবালকে বিশ্রামে পাঠালেও আক্রমণের ধার কমেনি। ৪৯ মিনিটে আসে চতুর্থ গোল। আলেক্স বায়েনার কর্নার থেকে কুকুরেয়ার ভলি প্রথমে ঠেকান গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল-ওয়াইস। তবে ফিরতি বল ডিফেন্ডার হাসান আল-তাম্বাকতির গায়ে লেগে জালে ঢুকে গেলে ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-০।
এরপরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছিল স্পেন। ৬৫ মিনিটে ফেরান তোরেস গোলের খুব কাছে গিয়েও সফল হতে পারেননি। ইনজুরি সময়ে তাঁর করা আরেকটি গোল ভিএআর পরীক্ষার পর অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।
অন্যদিকে পুরো ম্যাচে সৌদি আরবকে বেশিরভাগ সময়ই নিষ্প্রভ দেখা যায়। ম্যাচের ৮০ মিনিট পার হওয়ার পর তারা প্রথমবারের মতো লক্ষ্যে শট নিতে সক্ষম হয়।
এই জয়ের ফলে ‘এইচ’ গ্রুপের শীর্ষে উঠে এসেছে স্পেন। প্রথম ম্যাচের হতাশা কাটিয়ে দারুণ প্রত্যাবর্তন করা দলটি এখন বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার হিসেবেই নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।