জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে দেশের ২৪তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
৩৪৯ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ৩৪৩ জন। ভোট দেননি ছয়জন। ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও ভোট গ্রহণের ঘটনা ঘটল। অর্থাৎ প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের সরাসরি ভোট দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলো।
নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর জয় অবশ্য আগে থেকেই অনেকটা নিশ্চিত ছিল। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যদের নিজ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত। এর ওপর জাতীয় সংসদে ক্ষমতাসীন বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ফলে মির্জা ফখরুলের জয় নিয়ে অনিশ্চয়তা না থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকায় তফসিল অনুযায়ী ভোট গ্রহণ করা হয়।
আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে তিনি দেশের ২৪তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
এর আগে গত ২৪ জুলাই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী ওই দিনই জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বঙ্গভবনের ওয়েবসাইটে তাঁকে ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সে হিসাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৪তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন।
৩৪৩ সদস্যের ভোট, ফখরুল ২৫৫
বৃহস্পতিবার বেলা ২টা থেকে জাতীয় সংসদের সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়। ভোট দেওয়ার শেষ সময় নির্ধারিত ছিল বিকেল ৫টা। তবে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই প্রায় সব সংসদ সদস্য ভোট দিয়ে দেন। ভোট গণনায় সময় লাগে প্রায় ২০ মিনিট।
এরপর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন ফলাফল ঘোষণা করেন। তিনি জানান, মোট ৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোট দিয়েছেন। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট এবং ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সংসদ কক্ষে পাশের আসনে থাকা নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গোলাপ ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। এ সময় সংসদ সদস্যরা করতালি ও টেবিল চাপড়ে তাঁকে অভিনন্দন জানান। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিও সবার উদ্দেশে হাত নেড়ে ও সালাম দিয়ে শুভেচ্ছার জবাব দেন।
এরপর বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান নিজ আসন থেকে উঠে সামনে এগিয়ে এসে মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানান। দুজন পরস্পরকে আলিঙ্গন করেন। পরে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামসহ আরও কয়েকজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে কোলাকুলি করেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি।
একপর্যায়ে সংসদ কক্ষের মাঝখানে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকেও পরস্পরকে কোলাকুলি করতে দেখা যায়।
রাতে নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
যেভাবে হলো ভোট গ্রহণ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিক থেকেই সংসদ সদস্যরা জাতীয় সংসদ ভবনে আসতে শুরু করেন। বেলা ২টার কিছু আগে সংসদ কক্ষে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
বেলা ২টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে ভোট গ্রহণের কার্যক্রম শুরু হয়। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহমেদ এবং সংসদ সচিবালয়ের সচিব গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করেন। ভোট শুরুর আগে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স তিনটি খালি আছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখেন।
এরপর সিইসি সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনেই অবস্থান করছিলেন। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের জন্য সংসদ কক্ষের মাঝামাঝি দুটি আসনের ব্যবস্থা করা হয়।
বেলা ২টা ১০ মিনিটের দিকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সংসদ সদস্যদের আসনে গিয়ে ব্যালট পৌঁছে দেন। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসেই ভোট দেন। ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নিজের পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ভোট দিতে হয়।
সবার আগে ভোট দেন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল। পরে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। এরপর ভোট দেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
পর্যায়ক্রমে অন্য সংসদ সদস্যরাও ব্যালট বাক্সে তাঁদের ভোট জমা দেন। ভোট গ্রহণের সময় সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে কুশল বিনিময় এবং ছবি তোলার দৃশ্যও দেখা যায়। বিকেল ৩টার মধ্যেই সংসদ কক্ষে উপস্থিত প্রায় সব সদস্যের ভোট দেওয়া শেষ হয়ে যায়। পরে বিকেল ৪টার কিছু পর হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান ভোট দেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অলি আহমদ সংসদ সদস্য নন। ফলে তাঁর ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল না।
ভোট দেননি ছয় সংসদ সদস্য
জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনসহ মোট সদস্য ৩৫০ জন। তবে উচ্চ আদালতের নির্দেশের কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফল এখনো ঘোষণা করা হয়নি। ফলে বর্তমানে সংসদ সদস্যের সংখ্যা ৩৪৯ জন।
এই ৩৪৯ জনের মধ্যে ৩৪৩ জন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। ভোটদানে বিরত ছিলেন ছয়জন। তাঁরা হলেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য আবুল হাসান এবং বিএনপির সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস, ওসমান ফারুক ও মোস্তফা কামাল পাশা।
তাঁদের মধ্যে মির্জা আব্বাস বিদেশে অবস্থান করছেন এবং মোস্তফা কামাল পাশা চিকিৎসাধীন। তাঁরা ভোট দিতে না পারার বিষয়টি আগেই দলকে জানিয়েছিলেন। ওসমান ফারুকও বিদেশে অবস্থান করছেন।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জামায়াতে ইসলামী। তাঁকে ভোট দিতে দেখা যায়নি। আর আবুল হাসান বিদেশে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর দলের মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার কারণ হিসেবে নির্বাচনটির ফলাফল আগে থেকেই নির্ধারিত থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন। তাঁর মতে, ভোটে অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটিকে প্রকৃত অর্থে নির্বাচন বলা যায় না। তাঁর কাছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটি নির্বাচন না হয়ে অনেকটা মনোনয়ন প্রক্রিয়ার মতো মনে হয়েছে।
বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ২৫৫ ভোটের হিসাব
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ২৫৫ ভোট পাওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা ছিল সংসদে বিএনপি ও তাদের মিত্রদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা।
৩৪৯ জন ভোটারের মধ্যে ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদ সদস্য ২৪৭ জন। এর সঙ্গে তাদের মিত্র বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণ অধিকার পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলনের একজন করে সংসদ সদস্য রয়েছেন। অর্থাৎ বিএনপি ও মিত্রদের মোট ভোট ছিল ২৫০টি।
তবে বিদেশে অবস্থানের কারণে বিএনপির তিনজন সংসদ সদস্য ভোট দিতে পারেননি। এদিকে বিএনপি ও তাদের মিত্রদের ২৪৭ জন সংসদ সদস্যের পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন এবং সাতজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুলকে ভোট দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে বিএনপির প্রার্থী পেয়েছেন ২৫৫ ভোট।
অন্যদিকে বিরোধী ১১-দলীয় ঐক্যের শরিক দলগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রয়েছেন ৭৮ জন। এর মধ্যে জামায়াতের সমর্থনে একজন সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হয়েছেন জাগপা থেকে। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপির আটজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তিনজন এবং খেলাফত মজলিসের একজন সংসদ সদস্য রয়েছেন।
সব মিলিয়ে বিরোধী শিবিরে ভোট ছিল ৯০টি। তাঁদের মধ্যে দুজন ভোট না দেওয়ায় অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
সিদ্ধান্ত বদলে ভোট দিল ইসলামী আন্দোলন
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে কিছুটা নাটকীয়তা তৈরি হয়। ভোট গ্রহণের আগে দলটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল, দলের একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ ভোটদানে বিরত থাকবেন।
তবে বেলা ২টা ২০ মিনিটের দিকে তাঁকে ভোট দিতে দেখা যায়। পরে সন্ধ্যায় ইসলামী আন্দোলনের নেতা গাজী আতাউর রহমান জানান, দলটি শুরুতে জুলাই সনদের আলোকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন না হওয়ায় ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।
তবে পরবর্তী সময়ে বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁদের আশ্বস্ত করা হয় যে আগামী জাতীয় নির্বাচন জুলাই সনদের আলোকে অনুষ্ঠিত হবে এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করা হবে। বিএনপির এই আশ্বাসের পর ইসলামী আন্দোলন তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
ফলে মির্জা ফখরুলের ভোটের হিসাবে ইসলামী আন্দোলনের একমাত্র সংসদ সদস্যের ভোটও যুক্ত হয়।
১৯৯১ সালের পর আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট
স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিভিন্ন সময়ে সংসদ সদস্যদের ভোটে অনুষ্ঠিত হলেও ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই নির্বাচন হয়ে আসছিল। ফলে সংসদে ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরিস্থিতি অনেক বছর পর আবার দেখা গেল।
১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ওই বছরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় পর এবারের নির্বাচনে দুই প্রার্থী থাকায় সংসদ কক্ষে আনুষ্ঠানিক ভোট গ্রহণের প্রয়োজন হয়।
যদিও সংসদে বিএনপির শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে ফলাফল নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে খুব বেশি অনিশ্চয়তা ছিল না, তবু প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সাংবিধানিক ও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
নতুন রাষ্ট্রপতির সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতির পদে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ গ্রহণের পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেবেন।
এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন। নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণের পর সাংবিধানিক নিয়মে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব শুরু করবেন মির্জা ফখরুল।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত হলো, অন্যদিকে ১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ বিরতির পর প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার ঘটনাও দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
শপথ গ্রহণের পর নতুন রাষ্ট্রপতির সামনে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদটির মর্যাদা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।