ঢাকা

ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কাতারের এলএনজি স্থাপনা পুনরুদ্ধারে দীর্ঘ সময়, চাপে পড়তে পারে বাংলাদেশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের পাল্টা আঘাতে কাতারের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামোর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে দেশটির মোট রপ্তানি সক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ কমে গেছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুরো পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা মেরামতে ৩ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ আল-কাবি এক সাক্ষাৎকারে জানান, এমন পরিস্থিতি তারা কল্পনাও করেননি। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে একটি মুসলিম দেশের কাছ থেকে এ ধরনের হামলা তাদের জন্য ছিল অপ্রত্যাশিত।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন ইসরায়েল ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের জ্বালানি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর মধ্যে কাতারের রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সেও আঘাত হানে, যেখানে আগুন লেগে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই স্থাপনাটি বিশ্বে এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানির অন্যতম বৃহৎ কেন্দ্র।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এই ঘটনার প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে দ্রুতই পড়তে পারে। কারণ, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারত—এই তিন দেশের এলএনজি আমদানির বড় অংশই কাতারনির্ভর। বিশেষ করে বাংলাদেশ প্রায় ৭০ শতাংশ এলএনজি কাতার থেকে সংগ্রহ করে।

জ্বালানি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলার জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের এলএনজি মজুত খুবই সীমিত—সর্বোচ্চ এক থেকে দুই সপ্তাহের মতো চলতে পারে। ফলে সরবরাহ ব্যাহত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং শিল্প খাতে গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, ভারতও তাদের মোট এলএনজি চাহিদার ৪০ শতাংশের বেশি কাতার থেকে আমদানি করে, ফলে তারাও সম্ভাব্য প্রভাবের বাইরে নয়।

এদিকে কাতার ইতিমধ্যে এলএনজি উৎপাদন আংশিকভাবে স্থগিত করেছিল। সাম্প্রতিক ক্ষয়ক্ষতির কারণে পুরো উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে তাইওয়ানও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, কারণ দেশটি তাদের এলএনজি চাহিদার একটি বড় অংশ কাতার থেকে আমদানি করে এবং তাদের মজুত সীমিত। তবে দেশটি জানিয়েছে, তারা মার্চ ও এপ্রিল মাসের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিশ্চিত করেছে এবং পরবর্তী সময়ের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স