ঢাকা

যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করলেন ট্রাম্প

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump বলেছেন, তিনি কোনো যুদ্ধবিরতি চান না। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও Israel–এর সঙ্গে চলমান সংঘাতের তৃতীয় সপ্তাহে এসে Iran বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন বিনোদন ও পর্যটনকেন্দ্রে হামলার হুমকি দিয়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা যখন অনিশ্চিত, তখন উভয় পক্ষের বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

‘কোনো যুদ্ধবিরতি নয়’: ট্রাম্প

এক সাম্প্রতিক বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো যুদ্ধবিরতির পক্ষে নন। তাঁর মন্তব্যে বোঝা যায়, ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রাখার কৌশল থেকে সরে আসার ইচ্ছা নেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি অংশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই অবস্থান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে এবং সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

বিশ্বজুড়ে ‘অসম হামলার’ হুমকি

ইরানের শীর্ষ সামরিক মুখপাত্র জেনারেল আবুলফজল শেকারচি সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্বজুড়ে থাকা ‘পার্ক, বিনোদন এলাকা ও পর্যটন গন্তব্যগুলো’ ইরানের শত্রুদের জন্য আর নিরাপদ থাকবে না। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে যে, তেহরান মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও অসম (অ্যাসিমেট্রিক) হামলার কৌশল নিতে পারে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হুমকি আন্তর্জাতিক পর্যটননির্ভর অর্থনীতির দেশগুলোতে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে ইউরোপ, উপসাগরীয় অঞ্চল ও এশিয়ার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে সতর্কতা জোরদার হতে পারে।

‘সাউথ পার্স’ হামলার পর উত্তেজনা বৃদ্ধি

গত বুধবার ইসরায়েল ইরানের বিশাল সামুদ্রিক গ্যাসক্ষেত্র South Pars Gas Field–এ বোমা হামলা চালায় বলে তেহরান দাবি করেছে। এই গ্যাসক্ষেত্রটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রাকৃতিক গ্যাসভাণ্ডার, যা ইরানের জ্বালানি অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু।

এর পর থেকেই উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে পাল্টা হামলা জোরদার করেছে ইরান। বিশ্লেষকেরা বলছেন, জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

কুয়েতে ড্রোন হামলা

শুক্রবার ভোরে কুয়েতের একটি তেল শোধনাগারে দুই দফায় ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত Mina Al-Ahmadi Refinery–তে আগুন ধরে যায় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ এই শোধনাগার প্রতিদিন প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রাখে। হামলার ফলে উৎপাদন সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

Kuwait সরকার নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।

আঞ্চলিক থেকে বৈশ্বিক প্রভাবের আশঙ্কা

পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে সংঘাত কেবল আঞ্চলিক সীমায় আবদ্ধ থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিনোদন ও পর্যটনকেন্দ্রকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বেড়েছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, জ্বালানি অবকাঠামো ও বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা হলে তা আন্তর্জাতিক আইন, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

এ মুহূর্তে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কতটা কার্যকর হবে, তা অনিশ্চিত। তবে উত্তেজনা প্রশমনে দ্রুত আন্তর্জাতিক উদ্যোগ না নিলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স