ঢাকা

বিচার বিভাগীয় প্রশাসন ইস্যুতে সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে ডাকসুর প্রতিবাদ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্তকে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকারের ‘স্বৈরাচারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। একই সঙ্গে অবিলম্বে এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সচিবালয় পুনর্বহাল এবং পূর্ণাঙ্গ প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

আজ বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ অবস্থান জানায় ডাকসু। এতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ

বিবৃতিতে বলা হয়, বিচার বিভাগের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মৌলিক শর্ত। বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলাবিধানের ক্ষমতা নির্বাহী বিভাগের পরিবর্তে সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত করা উচিত বলেও মত দিয়েছে ডাকসু।

ডাকসুর মতে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বাতিলের সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের স্বাধীন কার্যক্রমকে আবারও নির্বাহী নিয়ন্ত্রণের অধীনে নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

অতীত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অতীতে বিচার বিভাগকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার অভিযোগ রয়েছে ক্ষমতাচ্যুত সরকারের বিরুদ্ধে। সেখানে বিচারকদের বদলি ও পদোন্নতিকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি করে ডাকসু।

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পৃথকীকরণ ছাড়া কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়, এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সেই কাঠামোর অন্যতম ভিত্তি।

সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া

ডাকসু দাবি করেছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা বিচার বিভাগের ওপর নির্বাহী বিভাগের প্রভাব কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের সিদ্ধান্তে সেই কাঠামো বিলুপ্ত হওয়ায় গণতান্ত্রিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

সংগঠনটির মতে, জনগণের আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে গিয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত সরকারের কর্তৃত্ববাদী প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় কীভাবে গঠিত হয়েছিল

সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত বছরের ৩০ নভেম্বর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয় এবং ১১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে এর কার্যক্রম শুরু হয়।

এর উদ্দেশ্য ছিল বিচার বিভাগের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ সুপ্রিম কোর্টের অধীনে আনা, যাতে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব কমে।

বাতিলের প্রক্রিয়া

পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা বিচার বিভাগ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয় সরকার।

গত ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ পাস হয়। এর মাধ্যমে আলাদা সচিবালয়ের আইনি ভিত্তি বাতিল করা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিলুপ্ত সচিবালয়ে কর্মরত জুডিশিয়াল সার্ভিসের ১৫ কর্মকর্তা ও বিচারককে পুনরায় মন্ত্রণালয়ে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক

বিশ্লেষকদের মতে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বাধীনতা বনাম নির্বাহী ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। একদিকে ডাকসু এবং কিছু ছাত্র সংগঠন এটিকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে সরকার বলছে প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, বিচার বিভাগের কাঠামো নিয়ে এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ককে আরও গভীর করেছে এবং বিষয়টি এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে অবস্থান করছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স