আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) একটি নজরদারি বিমানকে ‘একাধিকবার’ ও ‘বিপজ্জনকভাবে’ বাধা দিয়েছে রাশিয়ার দুটি যুদ্ধবিমান। গত মাসে কৃষ্ণসাগরের আকাশে এই ঘটনা ঘটে বলে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটির সময় আরএএফ–এর আরসি-১৩৫ডব্লিউ রিভেট জয়েন্ট নজরদারি বিমান ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তে নিয়মিত টহল কার্যক্রম চালাচ্ছিল। এই টহলকে কেন্দ্র করেই রুশ যুদ্ধবিমানগুলো কাছাকাছি এসে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, রাশিয়ার একটি সু-৩৫ যুদ্ধবিমান ব্রিটিশ নজরদারি বিমানের অত্যন্ত কাছাকাছি চলে আসে। এ সময় দূরত্ব এতটাই কমে যায় যে ব্রিটিশ বিমানের অটোপাইলট সিস্টেম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে জরুরি সুরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করতে হয়।
একই ঘটনার ধারাবাহিকতায় রাশিয়ার আরেকটি সু-২৭ যুদ্ধবিমান অন্তত ছয়বার ব্রিটিশ বিমানের সামনে দিয়ে চক্কর দেয়। এক পর্যায়ে দুই বিমানের দূরত্ব নেমে আসে প্রায় ছয় মিটার (১৯ ফুট) পর্যন্ত, যা সামরিক বিশ্লেষকদের মতে মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি এই ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, এটি আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় নিরস্ত্র একটি বিমানের বিরুদ্ধে রুশ পাইলটদের বিপজ্জনক আচরণের আরেকটি উদাহরণ। তাঁর ভাষায়, “এ ধরনের কর্মকাণ্ড বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে এবং পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক দিকে ঠেলে দিতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্য ও ন্যাটো মিত্রদের নিরাপত্তা রক্ষায় ব্রিটিশ বাহিনীর অঙ্গীকার এ ধরনের ঘটনায় দুর্বল হবে না।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২২ সালের পর রাশিয়ার পক্ষ থেকে এটিই যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বিপজ্জনক আকাশীয় আচরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ওই বছর কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে একটি রুশ যুদ্ধবিমান ব্রিটিশ নজরদারি বিমানের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার সময় ব্রিটিশ বিমানটি আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় অবস্থান করে ন্যাটোর পূর্ব সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে নিয়মিত গোয়েন্দা ও নজরদারি মিশন পরিচালনা করছিল।
লন্ডনে অবস্থিত রুশ দূতাবাসকে এ বিষয়ে নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে রাশিয়ার উসকানিমূলক সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু কৃষ্ণসাগর নয়, উত্তর সাগরেও যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রতল অবকাঠামোর কাছে রুশ সাবমেরিনের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের আকাশীয় মুখোমুখি অবস্থান ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে আরও ঘনীভূত করছে এবং ভুল হিসাব–নিকাশ থেকে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।