ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সকালে কলমিলতা বাজারের একটি দোকান থেকে হঠাৎ করেই আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা চারপাশের বেশ কয়েকটি দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পাওয়া মাত্রই ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের সহায়তায় উদ্ধার কাজ শুরু করে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং সরু গলির কারণে শুরুতে পানি ছিটানোর কাজে কিছুটা বেগ পেতে হলেও, মাত্র আধা ঘণ্টার তীব্র প্রচেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার ফাইটাররা।
ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির বিবরণ
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আগুনে বাজারের বেশ কয়েকটি কাঁচামাল ও মুদি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। তবে সকালের দিকে বাজারে ক্রেতাদের ভিড় তুলনামূলক কম থাকায় এবং দ্রুত সরিয়ে নেওয়ায় কোনো ধরনের বড় বড় প্রাণহানি বা গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, হঠাৎ আগুন লাগায় অনেকেই দোকানের মূল্যবান মালামাল সরানোর সুযোগ পাননি, যার ফলে বেশ কিছু পরিবার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে।
তদন্ত কমিটি ও নিরাপত্তার তাগিদ
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনও সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট অথবা দোকানের রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার থেকে এই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। একই সাথে, রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ও ব্যস্ততম এই কাঁচাবাজারগুলোতে পর্যাপ্ত অগ্নি-নির্বাপণ ব্যবস্থা ও পানির উৎসের ঘাটতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বর্তমানে কলমিলতা বাজার ও এর আশপাশের এলাকায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের একটি দল এখনও ঘটনাস্থলে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।


