ঢাকা

ট্রাম্পের বিস্ফোরক মন্তব্য: ইরান চেয়েছিল আমাকে সর্বোচ্চ নেতা বানাতে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক অভিনব দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, ইরানের বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁকে সর্বোচ্চ নেতা করার প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু তিনি সেটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

রিপাবলিকান পার্টির একটি তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, গত মাসে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হলে তেহরানের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্ব অনানুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব জানিয়েছিল। ট্রাম্পের ভাষ্য, “দুনিয়ার কোনো দেশের প্রধানই ইরানের প্রধান হতে চাইবেন না। তারা আমাকে খুব স্পষ্টভাবে বলেছিল, ‘আমরা আপনাকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা বানাতে চাই।’ আমি বলেছি, ‘ধন্যবাদ, আমার এটার দরকার নেই।’”


ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি ও আলোচনার প্রেক্ষাপট

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর পর মোজতবা খামেনিকে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, ইরান পর্দার আড়ালে যুদ্ধবিরতির জন্য ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় লিপ্ত। তিনি বলেন, “তারা একটি চুক্তির জন্য মরিয়া, কিন্তু প্রকাশ্যে আসতে ভয় পাচ্ছে। জানাজানি হলে জনগণের প্রতিক্রিয়ার ভয় এবং আমাদের হাতে বিপদের আশঙ্কা তাঁদেরকে দ্বিধাগ্রস্ত করছে।”

ইরানের সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের হত্যাকাণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, “সেখানে বর্তমানে একটি ক্ষমতার শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা চুক্তি আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করেছে।”


ইরানের শর্ত ও প্রতিক্রিয়া

হোয়াইট হাউস শান্তি আলোচনার বিষয়টি স্বীকার করলেও ইরান প্রকাশ্যে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
তেহরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানায়, যুদ্ধ বন্ধের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ভবিষ্যতে আর আক্রমণ করবে না, এমন নিশ্চয়তা
  • যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান
  • হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কর্তৃত্বের স্বীকৃতি

ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা বোমাবর্ষণের সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো পিছপড়া দেখায়নি।


বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই দাবির রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব সীমিত, কারণ এটি উভয় পক্ষেরই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত কোনো প্রস্তাব নয়। তবে পশ্চিমা মহলের নজর এখনো ইরানের ক্ষমতার শূন্যতা এবং অঞ্চলীয় প্রভাবের দিকে নিবদ্ধ রয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স