ঢাকা

ইরানকে চাপ বাড়ালেন ট্রাম্প, সমঝোতা না মানলে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ওয়াশিংটনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের শর্ত তেহরান পূরণ না করলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী ‘যা করা দরকার, তা–ই করবেন’।

সোমবার (২২ জুন) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প ইরান–সংক্রান্ত চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে এ হুঁশিয়ারি দেন।

‘শর্ত না মানলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’

ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি সমঝোতার শর্ত মেনে না চলে বা তাদের আচরণ গ্রহণযোগ্য না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে।

তিনি বলেন, “যদি ইরান সমঝোতার শর্ত না মানে কিংবা তাদের আচরণ ঠিকঠাক না থাকে; তবে আমার যা করা দরকার, আমি সেটাই করব।”

তার এ মন্তব্যকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

ট্রাম্প–পেজেশকিয়ান সমঝোতা স্মারক

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান নিজ নিজ দেশের পক্ষে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।

এই সমঝোতার লক্ষ্য ছিল দীর্ঘদিন ধরে চলমান উত্তেজনা প্রশমন এবং যুদ্ধবিরতির দিকে অগ্রসর হওয়া।

প্রায় চার মাস আগে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই সংঘাতে ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায় বলে জানা যায়।

নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও অর্থনৈতিক সমঝোতা

সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা ৬০ দিনের জন্য শিথিল করেছে বলে জানা গেছে।

চুক্তির মাধ্যমে ইরানের আটকে থাকা কিছু অর্থ ছাড়ের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। তবে এই অর্থ কীভাবে ব্যয় হবে, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে।

ট্রাম্পের দাবি, এই অর্থ মূলত খাদ্যপণ্য কেনার জন্য ব্যবহার করা হবে এবং তা যুক্তরাষ্ট্র থেকেই পণ্য ক্রয়ে ব্যয় হবে।

তিনি বলেন, “ছাড় করা সব অর্থ শেষ পর্যন্ত খাদ্যপণ্য কেনার জন্য ব্যয় হবে। আমরা যে অর্থ ছাড় করছি, তা শেষ পর্যন্ত আমাদের কৃষকদের কাছেই ফিরে আসবে।”

তেহরানের ভিন্ন অবস্থান

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নয় ইরান। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মতির বরাতে আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানায়, সমঝোতা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য কেনার কোনো বাধ্যবাধকতা ইরানের নেই।

ইরানের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, জব্দ করা অর্থ শুধু খাদ্যপণ্য নয়, নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকা অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য কেনাতেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

আলোচনায় অগ্রগতি, তবে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে

সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে গত রোববার থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনায় কিছু বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে উভয় পক্ষই জানিয়েছে।

১৪ দফা অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারকের ভিত্তিতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য নিয়ে এই আলোচনা চলছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করলেও পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং লেবানন পরিস্থিতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

পারমাণবিক ইস্যুতে সংশয়

আলোচনায় অগ্রগতি থাকলেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এখনো বড় ধরনের মতবিরোধ রয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। একই সঙ্গে লেবাননে চলমান সংঘাত নিয়েও চূড়ান্ত কোনো সমাধান হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সমঝোতা প্রক্রিয়া কার্যকর থাকলেও এটি অত্যন্ত ভঙ্গুর এবং যে কোনো সময় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।



ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের এই নতুন সমঝোতা এখনো পরীক্ষার মধ্যেই রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও অর্থ ছাড়ের সিদ্ধান্ত কিছুটা স্বস্তি দিলেও ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি এবং দুই পক্ষের ভিন্ন ব্যাখ্যা পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহ আলোচনার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স