ঢাকা

৪০ দিনের ছুটি শেষে রোববার খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা প্রায় ৪০ দিনের ছুটি শেষে দেশের প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগামী রোববার (২৯ মার্চ) থেকে খুলছে। সংশোধিত বার্ষিক ছুটির সূচি অনুযায়ী, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ছুটি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে ২৬ মার্চ। তবে ২৭ ও ২৮ মার্চ সাপ্তাহিক ছুটি (শুক্র ও শনিবার) থাকায় শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হচ্ছে রোববার থেকে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, রমজান মাস ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এ বছর একটানা দীর্ঘ ছুটি নির্ধারণ করা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা পরিবার–পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পেলেও দীর্ঘ বিরতির কারণে শিখনঘাটতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্ববিদ্যালয়েও একাডেমিক কার্যক্রম শুরু

চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও বিদ্যুৎ–জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার ৯ মার্চ থেকে দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ৯ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়, যা ঈদের ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে নির্ধারণ করা হয়েছিল।

ছুটি শেষে আগামী রোববার থেকে রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের অধিকাংশ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুনরায় ক্লাস ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হবে। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পূর্বনির্ধারিত একাডেমিক ক্যালেন্ডার পুনর্বিন্যাস করে স্থগিত ক্লাস ও পরীক্ষার নতুন সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টানা ১০ শনিবার ক্লাস

রমজান মাসজুড়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছুটি থাকায় শিক্ষার্থীদের শিখনঘাটতি পূরণে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ছুটি শেষে পরবর্তী ১০টি শনিবার—যা সাধারণত সাপ্তাহিক ছুটির দিন—দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাঠদান চলবে।

এ অনুযায়ী আগামী ৪ এপ্রিল, শনিবার থেকে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও ক্লাস অনুষ্ঠিত হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্ধারিত পাঠ্যসূচি সম্পন্ন ও শিক্ষার্থীদের পাঠদক্ষতা ধরে রাখতে এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত ক্লাসের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে পুনরালোচনা করানো হবে।

অভিভাবক–শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি

দীর্ঘ ছুটির পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা দেখা গেছে। তবে শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ ধরে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের পুনরায় পাঠাভ্যাসে ফিরিয়ে আনতে শিক্ষকদের বাড়তি উদ্যোগ নিতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে আরও সমন্বয় আনা হতে পারে। তবে আপাতত রোববার থেকে দেশজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স