ঢাকা

বাংলাদেশিসহ ২৪ ক্রু নিয়ে ওডিশা উপকূলে জাহাজডুবি, চলছে উদ্ধার অভিযান

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ভারতের ওডিশা উপকূলের কাছে বঙ্গোপসাগরে পানামার পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে গেছে। ‘এমভি ওশান উইনার’ নামের জাহাজটিতে বাংলাদেশিসহ ২৪ জন ক্রু ছিলেন। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান শুরু করে ভারতীয় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী। এরই মধ্যে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ক্রুদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, গতকাল শনিবার ওডিশার প্যারাদ্বীপ বন্দর থেকে প্রায় ২৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটি ডুবে যায়। জাহাজটিতে থাকা ২৪ ক্রুর মধ্যে ২০ জন চীনের, ৩ জন মিয়ানমারের এবং একজন বাংলাদেশের নাগরিক।

প্যারাদ্বীপ থেকে সিঙ্গাপুর যাচ্ছিল জাহাজটি

‘এমভি ওশান উইনার’ পানামার পতাকাবাহী একটি পণ্যবাহী জাহাজ। এটি ভারতের ওডিশার প্যারাদ্বীপ বন্দর থেকে লৌহ আকরিক নিয়ে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল।

সরকারি কর্মকর্তাদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার প্যারাদ্বীপ বন্দর ছেড়ে যায় জাহাজটি। পরে বঙ্গোপসাগরে যাত্রাপথে বন্দর থেকে প্রায় ২৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে এটি ডুবে যায়।

তবে কী কারণে জাহাজটি ডুবে গেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। দুর্ঘটনার আগে জাহাজটি কোনো সমস্যার সংকেত দিয়েছিল কি না, কিংবা আবহাওয়া বা সমুদ্রের পরিস্থিতি এতে ভূমিকা রেখেছিল কি না—সেসব বিষয়ও এখনো স্পষ্ট নয়।

দুর্ঘটনার কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দুপুরে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের খবর

দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার বেলা ১১টা ৪৮ মিনিটে জাহাজটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পায় ভারতের সামুদ্রিক উদ্ধার সমন্বয় কেন্দ্র। শ্রী বিজয়পুরমে অবস্থিত ওই সমন্বয় কেন্দ্রকে জাহাজটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান উদ্ধার সহায়তার অনুরোধ জানায়।

খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।

ভারতীয় কোস্টগার্ডের দুটি উদ্ধারকারী জাহাজ—‘বরদ’ ও ‘অনমোল’—ঘটনাস্থলের দিকে পাঠানো হয়। পাশাপাশি শ্রী বিজয়পুরম থেকে ‘বিজিত’ নামের আরও একটি জাহাজ উদ্ধার অভিযানে যুক্ত করা হয়।

দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকেও উদ্ধার তৎপরতায় যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

বাণিজ্যিক জাহাজে দুজন উদ্ধার

উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে কাছাকাছি থাকা ‘এমটি আইসোপোস’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে দুর্ঘটনাস্থলের দিকে পাঠানো হয়।

পরে শনিবার রাত ৮টার দিকে ওই জাহাজ থেকে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে উদ্ধার হওয়া দুজন কোন দেশের নাগরিক, তাঁদের শারীরিক অবস্থা কেমন এবং তাঁরা কীভাবে উদ্ধার হয়েছেন—এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বাকি ২২ জন ক্রুর অবস্থানও তখন পর্যন্ত নিশ্চিত করা যায়নি। তাঁদের উদ্ধারে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ভারতীয় কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে।

বাংলাদেশের একজন ক্রু নিয়ে উদ্বেগ

জাহাজটিতে বাংলাদেশের একজন নাগরিক থাকায় তাঁর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে ওই বাংলাদেশি ক্রুর পরিচয় বা তিনি উদ্ধার হওয়া দুজনের মধ্যে আছেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।

এ ছাড়া জাহাজে থাকা চীনের ২০ জন এবং মিয়ানমারের ৩ জন ক্রুর অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

উদ্ধারকারী দল এখন সাগরে নিখোঁজ ক্রুদের সন্ধানে তৎপর রয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলটি প্যারাদ্বীপ বন্দর থেকে অনেক দূরে হওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় সমুদ্রের পরিস্থিতি ও দূরত্ব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ক্রুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন প্যারাদ্বীপ বন্দর

জাহাজে থাকা নাবিক ও ক্রুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন প্যারাদ্বীপ বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন অলেখ চরণ।

রয়টার্সকে তিনি বলেন, তিনি জাহাজের নাবিকদের নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করছেন এবং ভালো কিছুর আশা করছেন।

জাহাজডুবির খবর পাওয়ার পর ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করায় নিখোঁজ ক্রুদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দুজনকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা অন্য ক্রুদের সন্ধানে আশাবাদ তৈরি করেছে।

তবে দুর্ঘটনার পর কতক্ষণ তাঁরা সাগরে ছিলেন, সমুদ্রের বর্তমান পরিস্থিতি কেমন এবং নিখোঁজ ক্রুরা লাইফবোট বা অন্য কোনো নিরাপদ স্থানে পৌঁছাতে পেরেছেন কি না—এসব তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়।

চলছে উদ্ধার অভিযান

জাহাজডুবির পর এখন মূল অগ্রাধিকার হচ্ছে নিখোঁজ ২২ জন ক্রুকে খুঁজে বের করা। ভারতীয় কোস্টগার্ডের উদ্ধারকারী জাহাজের পাশাপাশি নৌবাহিনী ও বাণিজ্যিক জাহাজও এ অভিযানে যুক্ত হয়েছে।

এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ‘এমভি ওশান উইনার’ বৃহস্পতিবার প্যারাদ্বীপ থেকে যাত্রা করার পর শনিবার বঙ্গোপসাগরে ডুবে যায়। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে কীভাবে একটি পণ্যবাহী জাহাজ এমন দুর্ঘটনার শিকার হলো, তা জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছে জাহাজটির মালিকপক্ষ ও বিভিন্ন দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খবর হলো—২৪ জন ক্রুর মধ্যে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশের একজনসহ বাকি ২২ জনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এখনো কাটেনি। ভারতীয় কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলো তাঁদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স