ঢাকা

সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী: ৩.৫ লাখ রোহিঙ্গার তথ্য যাচাই, ২.৫ লাখকে নিজেদের দাবি করছে মিয়ানমার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
জাতীয় সংসদের সোমবারের প্রশ্নোত্তর পর্বে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সংসদ সদস্যদের জানান, বাংলাদেশ সরকারের পাঠানো রোহিঙ্গা তালিকার মধ্যে মিয়ানমার মাত্র সাড়ে তিন লাখের তথ্য যাচাই করতে পেরেছে এবং তাদের মধ্যে আড়াই লাখকে নিজেদের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। মিয়ানমারের চলমান সংঘাতের কারণে এখনই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট; রোহিঙ্গাদের জন্য টেকসই সমাধান হল নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা ও সমর্থনের সঙ্গে বাস্তবায়িত হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ রোহিঙ্গা গণহত্যার দায়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (‘গাম্বিয়া বনাম মিয়ানমার’) আর্থিক সহায়তা প্রদান করছে এবং এই আইনি প্রক্রিয়া গভীর গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বাংলাদেশ নৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে সমর্থন অব্যাহত রাখবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কার্যক্রমের বিষয়ে খলিলুর রহমান বলেন, দেশের রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কূটনৈতিক সফল প্রয়োগের মাধ্যমে জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে। সরকার ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের উদীয়মান অর্থনীতির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি, অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা (PTA) এবং মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি (FTA) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে। এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের অর্থনৈতিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে দূতাবাস ‘ডায়াসপোরা এনগেজমেন্ট’ কার্যক্রম জোরদার করেছে।

পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া, সার্বভৌমত্ব রক্ষা, অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ইতিবাচক ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি পরিচালনা করছে, উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রচ্যে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জিসিসি-সদস্য দেশ ও ইরান উভয়ই বাংলাদেশকে বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে গণ্য করছে।

একই অধিবেশনে জামায়াতের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। প্রধানমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, শ্রম জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী দেশে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ৭ কোটি ১০ লাখ ১০ হাজার, যার মধ্যে পুরুষ চার কোটি ৮০ লাখ ২০ হাজার ও নারী ২ কোটি ৩৬ লাখ ৯০ হাজার। প্রতি বছর ১৩ লাখ ৬০ হাজার জনগোষ্ঠী কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছে। ২০২৬ সালের শ্রম জরিপ পরিচালনার প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স