বিদেশে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা শিক্ষার্থীদের জন্য আইইএলটিএস (IELTS) পরীক্ষাকে দীর্ঘদিন ধরে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, সময়ের সঙ্গে বদলাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি নীতি। বর্তমানে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে আইইএলটিএসের বিকল্প হিসেবে মিডিয়াম অব ইনস্ট্রাকশন (MOI) সনদ, নিজস্ব ইংরেজি ভাষা মূল্যায়ন বা অনলাইন সাক্ষাৎকার গ্রহণ করছে।
ফলে যেসব শিক্ষার্থী ইংরেজি মাধ্যমে পূর্ববর্তী পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে পারবেন, তাঁদের জন্য আইইএলটিএস ছাড়াও বিদেশে উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
২০২৬ সালে যেসব দেশে রয়েছে আইইএলটিএস ছাড়াই আবেদনের সুযোগ
জার্মানি
উন্নত গবেষণা, বিশ্বমানের শিক্ষা এবং তুলনামূলক কম খরচের কারণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য জার্মানি। দেশটির বেশ কয়েকটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট ইংরেজি মাধ্যমের প্রোগ্রামে আইইএলটিএসের পরিবর্তে মিডিয়াম অব ইনস্ট্রাকশন (MOI) সনদ গ্রহণ করে।
আইইএলটিএস ছাড়াই আবেদন গ্রহণকারী উল্লেখযোগ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—
ইউনিভার্সিটি অব সিগেন
ইউনিভার্সিটি অব কাইসারস্লটার্ন
আরডব্লিউটিএইচ আখেন ইউনিভার্সিটি
তবে সব বিভাগে নয়, নির্দিষ্ট কিছু প্রোগ্রামে এই সুবিধা দেওয়া হয়।
ফ্রান্স
ফ্রান্সের কয়েকটি আন্তর্জাতিক বিজনেস স্কুলও আইইএলটিএসের বিকল্প গ্রহণ করছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ইংরেজি মাধ্যমে পূর্ববর্তী শিক্ষার প্রমাণ অথবা সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হয়।
এ ধরনের সুযোগ রয়েছে—
নিওমা বিজনেস স্কুল
কেজ বিজনেস স্কুল
প্যারিস স্কুল অব বিজনেস
নেদারল্যান্ডস
নেদারল্যান্ডসের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ও নির্দিষ্ট কোর্সে MOI বা সমমানের বিকল্প ইংরেজি দক্ষতার সনদ গ্রহণ করে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—
হ্যান ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস
স্যাক্সিয়ন ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেস
ইউনিভার্সিটি অব গ্রোনিনজেন
কানাডা
কানাডার কিছু কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আইইএলটিএস ছাড়াও ভর্তি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বিশেষ করে—
পাথওয়ে (Pathway) প্রোগ্রাম
ভাষা প্রস্তুতিমূলক (Language Bridge) কোর্স
নির্দিষ্ট কলেজভিত্তিক ভর্তি ব্যবস্থা
এসবের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা প্রথমে ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন করে পরে মূল ডিগ্রি প্রোগ্রামে প্রবেশ করতে পারেন।
যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াতেও সুযোগ
যুক্তরাজ্যের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় নির্দিষ্ট শর্তে আইইএলটিএস ছাড়াই আবেদন গ্রহণ করে। একই ধরনের সুযোগ রয়েছে আয়ারল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিভিন্ন পাথওয়ে প্রোগ্রামেও।
তবে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সের নীতিমালা আলাদা হওয়ায় আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভর্তি নির্দেশিকা ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবেদন করতে যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন
আইইএলটিএস ছাড়াই আবেদন করতে সাধারণত নিম্নোক্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হয়—
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে প্রদত্ত মিডিয়াম অব ইনস্ট্রাকশন (MOI) সনদ।
একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট।
স্টেটমেন্ট অব পারপাস (SOP)।
সুপারিশপত্র (Recommendation Letter)।
বৈধ পাসপোর্ট।
বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা অনুযায়ী অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।
বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে অতিরিক্ত নথি বা অনলাইন সাক্ষাৎকারের প্রয়োজন হতে পারে।
আবেদন করার আগে যা নিশ্চিত করবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো বিশ্ববিদ্যালয় আইইএলটিএস ছাড়াই আবেদন গ্রহণ করছে—এ তথ্য জানার পরও শিক্ষার্থীদের অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কোর্সের ভর্তি নীতিমালা যাচাই করা উচিত। কারণ একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে বা সব প্রোগ্রামে এই সুবিধা প্রযোজ্য নাও হতে পারে।
এ কারণে আবেদন করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অথবা ভর্তি দপ্তর থেকে নিশ্চিত হয়ে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
ভর্তি মানেই ভিসা নিশ্চিত নয়
বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আইইএলটিএস ছাড়াই ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট দেশের শিক্ষার্থী ভিসা নিশ্চিত—এমনটি নয়।
অনেক দেশের ভিসা কর্তৃপক্ষ আবেদনকারীর ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, একাডেমিক প্রস্তুতি এবং বিদেশে পড়াশোনার উদ্দেশ্য পৃথকভাবে মূল্যায়ন করে থাকে। তাই আবেদনপত্রের প্রতিটি তথ্য সঠিক ও নির্ভুল হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে স্টেটমেন্ট অব পারপাস (SOP)-এ আবেদনকারীর ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা, ভবিষ্যৎ শিক্ষাগত লক্ষ্য এবং পেশাগত পরিকল্পনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আইইএলটিএসের বিকল্প গ্রহণের প্রবণতা ধীরে ধীরে বাড়লেও, আবেদন করার আগে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ ভর্তি নীতিমালা ও ভিসা সংক্রান্ত শর্ত ভালোভাবে যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।