দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগসংক্রান্ত নীতিনির্ধারণে বেসরকারি খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন শীর্ষ ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, নীতি প্রণয়নের সময় উদ্যোক্তাদের মতামত নেওয়া হলে বাস্তবায়ন সহজ হয় এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি হয়।
শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বেসরকারি খাত পরামর্শক কাউন্সিলের প্রথম বৈঠকে এই বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়। প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ বাড়াতে আস্থার পরিবেশ তৈরি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, বন্দর সুবিধা উন্নয়ন, ব্যাংকঋণের সুদহার কমানো এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর ওপর জোর দেন। তাঁরা মনে করেন, এসব সমস্যার সমাধান হলে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং কিছু বিষয়ে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। পাশাপাশি কয়েকটি বিষয়ে বিস্তারিত লিখিত প্রস্তাব চাওয়া হয়। বিনিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
ব্যাংক খাত নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, দেশে প্রয়োজনের তুলনায় ব্যাংকের সংখ্যা বেশি হওয়ায় খাতে চাপ তৈরি হচ্ছে। তাই বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যাংক ও বিমা খাতে অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানো উচিত। পাশাপাশি ডিজিটাল ব্যাংক চালু এবং পুঁজিবাজার শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সরকারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া, বন্ড মার্কেট উন্নয়ন এবং সরকারের ব্যাংকনির্ভর ঋণ কমানোর বিষয়েও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলের অগ্রগতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের অভিযোগ, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গ্যাস, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য সুবিধা না পাওয়ায় অনেক বিনিয়োগ আটকে আছে এবং নতুন কারখানা চালু করা যাচ্ছে না।
চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজন হলে বিদেশি অপারেটর নিয়োগের প্রস্তাবও দেওয়া হয়। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টরসহ প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা জানান, সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করতে এই কাউন্সিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খোঁজার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।