ঢাকা

বিএনপি সংসদীয় দলে সিদ্ধান্ত: চার অধ্যাদেশের পক্ষে নয়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
বিএনপি সংসদীয় দলের সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের চারটি অধ্যাদেশ অনুমোদনের বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, গুম প্রতিরোধ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিম কোর্টের স্বতন্ত্র সচিবালয় এবং বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের পক্ষে নয়। বিষয়গুলো নিয়ে সদস্যদের বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বক্তব্য দেন।

অধ্যাদেশ এবং বিলের অবস্থা

জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বিল আনা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে শক্তিশালী করার জন্য জারি অধ্যাদেশ বাতিল করে ২০০৯ সালের আইন পুনঃপ্রচলন করতে বিল প্রণয়ন করা হয়েছে। এই তিনটি বিল হলো—

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশটি এখনও সংসদে উত্থাপিত হয়নি। বিশেষ কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, এটি পরবর্তী সময়ে আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আনা হবে। ১০ এপ্রিলের মধ্যে এটি অনুমোদিত না হলে অধ্যাদেশের কার্যকারিতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হারাবে।

বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি ও কৌশল

সভায় উপস্থিত একাধিক সংসদ সদস্য জানান, আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের বেশিরভাগ অধ্যাদেশই বিল আকারে সংসদে পাস হবে। তবে গুম প্রতিরোধ এবং বিচার বিভাগ–সহ মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশ নিয়ে বিএনপির ভিন্ন মত রয়েছে। দল মনে করছে, এই অধ্যাদেশগুলো সংশোধন ছাড়া পাস করলে নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণ ও কার্যকারিতা সীমিত থাকবে।

সভায় বলা হয়েছে, এ অধ্যাদেশ নিয়ে বাইরে নেতিবাচক সমালোচনা রয়েছে। বিএনপির সংসদ সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিলগুলোর ব্যাপারে নেতিবাচক মন্তব্য না করে ‘অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে’—এ ধরনের কৌশলী বক্তব্য রাখা।

সংসদে বিরোধ ও প্রক্রিয়া

জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যরা কিছু অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্তে আপত্তি জানিয়েছিলেন। গত রোববার সুপ্রিম কোর্ট–সংক্রান্ত বিল উত্থাপনের সময় তারা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ জানিয়েছিলেন। আইনমন্ত্রী স্পিকারকে অনুরোধ করেছেন, বিলগুলো বিতর্কের জন্য সংরক্ষিত রাখা হোক।

ভবিষ্যতের পরিকল্পনা

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, এই চারটি বিল নিয়ে বিএনপি খুব শিগগিরই দলীয়ভাবে অবস্থান প্রকাশ করবে। আগামী শুক্রবার জুমার নামাজের পর সংসদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রয়োজনে গভীর রাত পর্যন্ত অধিবেশন চলবে। চিফ হুইপের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্যদের রাতের খাবারের ব্যবস্থা করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চেয়ারম্যান তারেক রহমান সভায় সংসদ সদস্যদের জানান, চিকিৎসা বা জরুরি কাজ ছাড়া সবাই অধিবেশনে উপস্থিত থাকবেন। এতে বোঝা যায়, দলের কৌশলগত অবস্থান স্পষ্ট করার জন্য সব সদস্যকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চাইছে বিএনপি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স