ঢাকা

‘বিএনপি ব্যর্থ আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগ সফল বিএনপি’—সারোয়ার তুষার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক আলোচনায় রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা, রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে তীব্র মতবিনিময় হয়েছে। আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বিএনপি, আওয়ামী লীগ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে পরস্পরবিরোধী অবস্থান তুলে ধরেন।

বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত ‘সংবিধান ও সংস্কার: নতুন বাংলাদেশ নাকি পুরোনো ফ্যাসিবাদ’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে Dhaka University Central Students' Union। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) Abu Sayed Kayem।

‘বিএনপি ব্যর্থ আওয়ামী লীগ, আওয়ামী লীগ সফল বিএনপি’ মন্তব্য

আলোচনায় প্রধান আলোচকদের একজন Sarwar Tushar বলেন, ক্ষমতা কুক্ষিগত করার ক্ষেত্রে বিএনপি যেসব রাজনৈতিক কৌশল অনুসরণ করতে চেয়েছিল, সেগুলো তারা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তাঁর মতে, আওয়ামী লীগ সেই একই রাজনৈতিক পথ অনুসরণ করে সফল হয়েছে।

তিনি বলেন, “বিএনপি আওয়ামী লীগ হতে চায় কিন্তু পারে না, তাই তারা ব্যর্থ আওয়ামী লীগ। আর আওয়ামী লীগ বিএনপির দেখানো পথে সফলভাবে হেঁটে সফল বিএনপি হয়ে উঠেছে।”

গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে অবস্থান

তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপির বর্তমান রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হলো গণভোটের ফলাফলকে অস্বীকার করা। তাঁর মতে, ‘জুলাই সনদ’কে ব্যবহার করে গণভোট বাস্তবায়ন এড়ানোর চেষ্টা চলছে, যদিও শেষ পর্যন্ত উভয় প্রক্রিয়াই তারা বাস্তবায়ন করবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

৭১ ও ২৪ নিয়ে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা

আলোচনায় Mawlana Mamunul Haque বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সম্পূর্ণভাবে ধারণ করতে পারেনি। তাঁর মতে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান সেই কাঠামোগত বিচ্যুতি সংশোধনের একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির ভুল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও Bangladesh Jamaat-e-Islami নেতা Shishir Monir বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংসদের ক্ষমতার মধ্যে বিরোধ তৈরি হচ্ছে, যা দেশের জন্য “ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি” তৈরি করতে পারে।

তিনি অভিযোগ করেন, বিচার বিভাগ ও পার্লামেন্টের মধ্যে ক্ষমতার টানাপোড়েন ক্রমেই বাড়ছে, যা সাংবিধানিক ভারসাম্যকে প্রভাবিত করছে।

সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় কাঠামো নিয়ে সমালোচনা

Asaduzzaman Fuad বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পরিবর্তে দলীয়করণ বাড়ছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ঘটনা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য উদ্বেগজনক।

তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে পরিবারকেন্দ্রিক প্রভাবমুক্ত রাখা প্রয়োজন।

অন্যান্য বক্তাদের মতামত

আলোচনায় আরও বক্তব্য দেন—

Dilara Chowdhury, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক
Shamima Tasnim, সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সভাপতি
Fahim Mashroor, গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের সমন্বয়ক
Rajib Ahmed, বিশেষ প্রতিনিধি, The Daily Samakal
ডাকসুর অন্যান্য নেতৃবৃন্দ

বক্তারা রাষ্ট্রীয় সংস্কার, সাংবিধানিক কাঠামো এবং রাজনৈতিক জবাবদিহির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেন।

রাজনৈতিক বিতর্কের নতুন মাত্রা

বিশ্লেষকদের মতে, ডাকসু প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা শুধু ছাত্ররাজনীতি নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ভূমিকা নিয়ে কঠোর সমালোচনা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ—সব মিলিয়ে আলোচনা সভাটি রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স