ঢাকা

পশ্চিমবঙ্গ ভোটে রাজনৈতিক তোপ: বিজেপি-তৃণমূল দু’দলই দুর্নীতিগ্রস্ত—রাহুল গান্ধী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে শেষ দফার প্রচারে চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে রাজ্যজুড়ে। ভোটের আর মাত্র ৯ দিন বাকি থাকতে মঙ্গলবার রাজ্যে এসে একাধিক জনসভায় অংশ নেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। একই দিনে বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী সভা ও রোড শো করেন বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা।

রায়গঞ্জে রাহুলের আক্রমণ: “দুই দলই দুর্নীতিগ্রস্ত”

সকালে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ স্টেডিয়ামে কংগ্রেস আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখেন রাহুল গান্ধী। তিনি সরাসরি আক্রমণ করেন ক্ষমতাসীন ও প্রধান বিরোধী দল—দুই পক্ষকেই।

রাহুল বলেন, বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেস—দুটি দলই দুর্নীতিগ্রস্ত। তার অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ এখন “সিন্ডিকেট রাজনীতির” কবলে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

তিনি আরও দাবি করেন, রাজ্যে কংগ্রেস কর্মীরা নিয়মিত হামলা ও লাঞ্ছনার শিকার হচ্ছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের শিল্পনীতিকেও ব্যর্থ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

রাহুল বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার যেমন শিল্পকারখানা বন্ধের দিকে এগোচ্ছে, তেমনি রাজ্যেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তার অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে গণতন্ত্রকে “ভোট চুরির মাধ্যমে” ধ্বংস করা হচ্ছে।

জাতীয় রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এখন বিদেশি শক্তির প্রভাব ও শিল্পপতি ঘনিষ্ঠতার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছেন—এমন বক্তব্যও দেন তিনি।

রায়গঞ্জের পর রাহুল গান্ধী মালদার চাঁচল এবং মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে আরও দুটি জনসভায় অংশ নেন।

মমতার পাল্টা অবস্থান: “বাংলা দখলের চেষ্টা রুখে দেওয়া হবে”

অন্যদিকে, পূর্ব মেদিনীপুরের পিংলায় নির্বাচনী জনসভায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তিনি অভিযোগ করেন, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ও ডিলিমিটেশনকে কেন্দ্র করে বিজেপি রাজ্যে রাজনৈতিকভাবে “বাংলা দখলের পরিকল্পনা” করছে।

মমতা বলেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দেওয়ার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার চেষ্টা হচ্ছে। তবে তৃণমূল কংগ্রেস তা প্রতিহত করবে বলে তিনি জানান।

ভিনরাজ্যে বাংলাভাষী শ্রমিকদের “অনুপ্রবেশকারী” তকমা দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এই আচরণকে অপমানজনক বলে মন্তব্য করেন মমতা।

তিনি আরও বলেন, ভোটের আগে তৃণমূলের বুথ এজেন্টদের গ্রেপ্তারের আশঙ্কা রয়েছে এবং সে কারণে দলকে “বিকল্প সংগঠনগত ব্যবস্থা” প্রস্তুত রাখতে হবে।

পিংলার পর তিনি তমলুক ও হাওড়ার একাধিক জনসভায় অংশ নেন এবং বিজেপিকে ক্ষমতা থেকে সরানোর আহ্বান জানান।

অমিত শাহর উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি ও কড়া ভাষা

দিনের শেষে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেন।

কালিয়াগঞ্জে রোড শো এবং গঙ্গারামপুরে জনসভায় তিনি রাজ্যের উন্নয়ন, অবকাঠামো ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক প্রতিশ্রুতি দেন।

তিনি জানান, ক্ষমতায় এলে উত্তরবঙ্গে নতুন শহর গড়ে তোলা, ক্যানসার হাসপাতাল, ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং আদিবাসী ও রাজবংশী ভাষার উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যুতে তিনি বলেন, ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশ রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সীমান্তে অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে।

তবে তার বক্তব্যের সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ ছিল সিন্ডিকেট প্রসঙ্গ। তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে সিন্ডিকেট রাজ চলছে এবং তা ভেঙে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন।

রাজনৈতিক সহিংস ভাষা ঘিরে বিতর্ক

অমিত শাহ তার বক্তব্যে বলেন, “সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের কঠোরভাবে শাস্তি দেওয়া হবে”—এই মন্তব্য রাজ্যজুড়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেষ পর্যায়ের প্রচারে এসে তিন প্রধান রাজনৈতিক শক্তির এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য ভোটের লড়াইকে আরও তীব্র ও মেরুকৃত করছে।

নির্বাচন ঘিরে চূড়ান্ত উত্তেজনা

সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন এখন তীব্র রাজনৈতিক ভাষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। একদিকে কংগ্রেস দুর্নীতির অভিযোগে দুই প্রধান দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে, অন্যদিকে তৃণমূল বিজেপিকে বাংলা ভাগের ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে।

বিজেপি আবার উন্নয়ন ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি কঠোর প্রশাসনিক অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন চরম উত্তেজনায় পৌঁছেছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স