ঢাকা

হরমুজ প্রণালি খুলতে যাচ্ছে ইরান, নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের: শাহবাজ শরিফ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এই সমঝোতার আওতায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে খুলে দেবে ইরান এবং একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে এই তথ্য জানান।

সমঝোতার প্রথম ধাপ হিসেবে হরমুজ প্রণালি খুলবে ইরান

শাহবাজ শরিফ বলেন, নতুন এই সমঝোতা স্মারক অবিলম্বে কার্যকর হচ্ছে। এর প্রথম ধাপ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে, যা বিশ্ব জ্বালানি ও বাণিজ্য পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক পথ।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে বলে তিনি জানান।

‘তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে’ সমঝোতা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারক তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে। এটি মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা প্রশমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সমঝোতার মাধ্যমে দুই পক্ষ ধাপে ধাপে বাস্তবায়নযোগ্য একটি শান্তি প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করছে।

কারিগরি আলোচনা শুরু করতে সুইজারল্যান্ডে বৈঠক

শাহবাজ শরিফ জানান, এই ঐতিহাসিক উদ্যোগকে আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নিতে এবং পরবর্তী ধাপের কারিগরি আলোচনা শুরু করার জন্য আগামীকাল শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে একটি উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, কাতারের সহযোগিতায় পাকিস্তান এই আয়োজন করছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো ভবিষ্যৎ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করবে।

হরমুজ প্রণালির কৌশলগত গুরুত্ব

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ হিসেবে পরিচিত। বিশ্বজুড়ে তেল ও জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।

এই প্রণালির যেকোনো ধরনের অবরোধ বা উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে।

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার দিকে অগ্রগতি

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এমন সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

তবে এখনো এই সমঝোতার পূর্ণ বাস্তবায়ন ও পরবর্তী ধাপ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নজর রয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স