ঢাকা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ডি ইউনিটে সাফল্য, মোত্তালেবের লক্ষ্য শিক্ষাবিদ হওয়া

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
দারিদ্র্য ও প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ভর্তি পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার কৃষক পরিবারের সন্তান আবদুল মোত্তালেব। ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদের স্বতন্ত্র ডি ইউনিটে প্রথম স্থান অর্জন করে তিনি শুধু নিজের নয়, পরিবার ও এলাকার গর্বে পরিণত হয়েছেন।

প্রতিকূলতা জয় করে সাফল্য

তিন ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয় মোত্তালেবের পথচলা ছিল সংগ্রামমুখর। আর্থিক সংকটের কারণে পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার সঙ্গে কৃষিকাজেও যুক্ত থাকতে হয়েছে তাঁকে। তবে কোনো বাধাই তাঁর লক্ষ্যচ্যুতি ঘটাতে পারেনি।

মোত্তালেব বলেন, ‘আর্থিক সমস্যার কারণে শুরুতে অফলাইনে ক্লাস করতে পারিনি। বাড়িতে থেকেই পড়াশোনা করেছি এবং বাবার সঙ্গে কৃষিকাজ করেছি। পরে ঈদের সময় কয়েক দিনের জন্য এসে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছি। শিক্ষকদের দিকনির্দেশনায় আজকের এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।’

ধারাবাহিক মেধার স্বাক্ষর

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার একটি মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও আলিম পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি উভয় ক্ষেত্রেই জিপিএ-৫ অর্জন করেন। শুরু থেকেই পড়াশোনায় মেধার পরিচয় দিয়ে আসা মোত্তালেব বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির প্রস্তুতিতেও ছিলেন সমান মনোযোগী।

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তিনি কুষ্টিয়ার একটি কোচিং সেন্টারে প্রথমে অনলাইনে এবং পরে সরাসরি ক্লাস করেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি ইউনিটে ১২০ নম্বরের পরীক্ষায় তিনি পেয়েছেন ১০৭.৭৫ নম্বর, যা তাঁকে প্রথম স্থানে পৌঁছে দিয়েছে। এই ইউনিটে ৩৩০টি আসনের বিপরীতে ১ হাজার ৮৮৬ জন ভর্তিচ্ছু অংশ নেন।

পরিবারই অনুপ্রেরণা

মোত্তালেবের সাফল্যের পেছনে পরিবারের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘পরিবারের সবাই আমাকে পড়াশোনায় উৎসাহ দিয়েছে। বাবাকে কৃষিকাজে সাহায্য করেছি—এটা আমার দায়িত্ব। কষ্ট হলেও কখনো পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবিনি।’

লক্ষ্য ইসলামিক শিক্ষাবিদ হওয়া

ভবিষ্যতে একজন ইসলামিক শিক্ষাবিদ (স্কলার) হওয়ার স্বপ্ন দেখেন মোত্তালেব। সে লক্ষ্যেই তিনি ধর্মতত্ত্ব ও ইসলামি শিক্ষা অনুষদে ভর্তি হতে চান। অনুষদটির অধীনে থাকা বিভাগগুলোর মধ্যে কোরআন বা হাদিস বিভাগে পড়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আল্লাহর ইচ্ছায় এখানে পড়ার সুযোগ পেয়েছি। অনেক আগে থেকেই ইসলামিক স্কলার হওয়ার ইচ্ছা। আশা করি, সে লক্ষ্য পূরণ করতে পারব।’

অনুপ্রেরণার প্রতীক

মোত্তালেবের এই সাফল্য আবারও প্রমাণ করে, দারিদ্র্য কখনোই মেধা ও স্বপ্নের পথে চূড়ান্ত বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম এবং পরিবারের সমর্থন থাকলে প্রতিকূলতার মধ্যেও সাফল্য অর্জন সম্ভব—এই বার্তাই দিয়েছেন রংপুরের এই মেধাবী তরুণ।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স