উচ্চশিক্ষার জন্য ইতালিতে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে ইতালির দূতাবাস। ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল করতে ভাষাগত যোগ্যতা, স্পনসরশিপ, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং অ্যাপয়েন্টমেন্ট পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন এই নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনও আনা হয়েছে, যা ভিসা আবেদনকারীদের অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে।
সোমবার (১ জুন ২০২৬) ঢাকায় ইতালির ভিসা আবেদন গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণকারী প্রতিষ্ঠান VFS Global এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানিয়েছে।
অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য আলাদা আবেদন করতে হবে না
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব শিক্ষার্থী ইতালির বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ইউনিভার্সিটি পোর্টালে নিয়মিতভাবে প্রি-এনরোলমেন্ট বা নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন, তাঁদের সঙ্গে সরাসরি ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করবে ভিএফএস গ্লোবাল।
এই যোগাযোগের ভিত্তিতেই স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্টের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। ফলে শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য আবেদন করতে হবে না।
ভিএফএস জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে নিবন্ধনের সময় আবেদনকারী যে ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করেছেন, সেই একই ই-মেইলে ভিসা সংক্রান্ত সব ধরনের যোগাযোগ করা হবে। তাই শিক্ষার্থীদের নিয়মিত নিজেদের ই-মেইল পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্পনসরশিপের ক্ষেত্রে সুযোগ বাড়ল
নতুন নির্দেশনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্পনসরশিপের ক্ষেত্রে আত্মীয়স্বজনের পরিধি বৃদ্ধি করা।
এর আগে সাধারণত শিক্ষার্থীদের আর্থিক স্পনসর হিসেবে বাবা-মায়ের নথিপত্র বেশি গ্রহণযোগ্য ছিল। তবে এখন মা-বাবার পাশাপাশি দাদা-দাদি, নানা-নানি, চাচা, ফুফু, মামা, খালা এবং কাজিনদের আর্থিক গ্যারান্টিও গ্রহণ করা হবে।
এ ছাড়া ইতালিতে বসবাসরত আত্মীয়রাও শিক্ষার্থীদের স্পনসর হতে পারবেন বলে জানিয়েছে ভিএফএস গ্লোবাল। এতে আর্থিকভাবে যোগ্য কিন্তু বাবা-মায়ের বাইরে অন্য আত্মীয়ের সহায়তায় বিদেশে পড়তে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ভাষাগত দক্ষতার সনদ বাধ্যতামূলক
ইতালির দূতাবাস নতুন নির্দেশনায় ভাষাগত দক্ষতার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে।
দূতাবাস বলছে, আবেদনকারীদের অবশ্যই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো প্রতিষ্ঠান বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত ভাষা দক্ষতার সনদ জমা দিতে হবে। শুধুমাত্র এমন সনদই গ্রহণযোগ্য হবে, যেখানে আবেদনকারীর ভাষাগত সক্ষমতার বিস্তারিত মূল্যায়ন উল্লেখ থাকবে।
বিশেষ করে মৌখিক বোধগম্যতা (Listening), লিখিত বোধগম্যতা (Reading), কথা বলা (Speaking) এবং লেখার (Writing) দক্ষতা পৃথকভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
দূতাবাসের মতে, ভাষাগত সক্ষমতা বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্ত। তাই আবেদনকারীদের ভাষা দক্ষতা যাচাইয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে।
অতিরিক্ত শিক্ষাগত নথি জমা দেওয়ার আহ্বান
ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সত্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণে অতিরিক্ত নথি জমা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস।
এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের কাছে CIMEA সনদ অথবা ‘Declaration of Value’ জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এই নথিগুলো আবেদনকারীর পূর্ববর্তী শিক্ষাগত যোগ্যতা ইতালির শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে ভিসা মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় এসব নথি আবেদনকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
আবেদনের শেষ সময় ২৯ অক্টোবর
ইতালির দূতাবাস জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্-তালিকাভুক্তি (Pre-enrolment) সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের জন্য স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ২৯ অক্টোবর ২০২৬।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদনপত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করে আবেদন সম্পন্ন করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
উচ্চশিক্ষায় ইতালিমুখী শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ থেকে ইতালিতে উচ্চশিক্ষার আগ্রহ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তুলনামূলক কম টিউশন ফি, বিভিন্ন বৃত্তি সুবিধা, ইউরোপীয় শিক্ষা ব্যবস্থার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং পড়াশোনা শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগের কারণে দেশটি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
নতুন নির্দেশনার মাধ্যমে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও কাঠামোবদ্ধ ও যাচাইযোগ্য করার চেষ্টা করছে ইতালির দূতাবাস। বিশেষ করে ভাষাগত দক্ষতা, আর্থিক স্পনসরশিপের স্বচ্ছতা এবং শিক্ষাগত নথির গ্রহণযোগ্যতার ওপর জোর দেওয়ায় আবেদনকারীদের প্রস্তুতিও আরও গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে বলে মনে করছেন শিক্ষা ও অভিবাসন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
যেসব শিক্ষার্থী ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ইতালির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে আগ্রহী, তাদের জন্য নতুন এই নির্দেশনাগুলো সময়মতো জেনে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।