ঢাকা

পাবলিক পরীক্ষায় ‘সাইলেন্ট এক্সপেল’ বাতিল: স্বচ্ছতার পথে নতুন পদক্ষেপ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
আসন্ন এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা-২০২৬ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে অংশীজনদের সঙ্গে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে দীর্ঘদিনের পুরনো ও ত্রুটিপূর্ণ আইনি ধারাগুলো সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আইনি স্বচ্ছতা ও ‘২৯ নম্বর ধারা’ রহিতকরণ
অগণতান্ত্রিক প্রথা: শিক্ষামন্ত্রী জানান, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া (Due Process) ছাড়া কাউকে শাস্তির আওতায় আনা আইনসম্মত নয়। শিক্ষা বোর্ডের পুরনো নীতিমালার বিতর্কিত ২৯ নম্বর ধারাটি অবিলম্বে বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বিস্ময় প্রকাশ: এই প্রথার অস্তিত্ব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, ১৯৮০ সালের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ আইনেও এমন কোনো নিয়ম ছিল না। গোপনে বা পরীক্ষা শেষে বাড়িতে বসে কাউকে বহিষ্কার করার বিষয়টি সম্পূর্ণ নীতিবহির্ভূত।

তৎক্ষণাৎ প্রমাণ: যদি কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করে, তবে তার প্রমাণ পরীক্ষা কেন্দ্রেই হতে হবে এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নিতে হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ ও বিভ্রান্তি নিরসন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তি নিয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন:

পুরনো নীতিমালা: বর্তমান বিভ্রান্তি ছড়ানোর মূলে রয়েছে ১৯৬১ সালের একটি সেকেলে নীতিমালা। আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থায় এর কোনো স্থান নেই।

স্পষ্টীকরণ বিজ্ঞপ্তি: আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি খুব দ্রুত এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে শিক্ষার্থীদের শঙ্কা দূর করবে।

পরীক্ষার সময়সূচি ও প্রস্তুতি
বৈঠকে আসন্ন দুটি গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্ত ও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে:

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা: আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই পরীক্ষার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা: আগামী ২ জুলাই থেকে পরীক্ষা শুরু হবে এবং পরবর্তী পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে তা শেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নজরদারি এখন শিক্ষকদের ওপর
শিক্ষামন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন যে, এবারের কড়াকড়ি আইনগুলো শিক্ষার্থীদের ভয় দেখানোর জন্য নয়।

শিক্ষকদের জবাবদিহিতা: কড়াকড়ি নিয়মগুলো মূলত শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিবদের জন্য, যাতে তারা দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা না করেন।

মানসম্মত শিক্ষা: সরকার পরীক্ষার্থীদের পেছনে না ছুটে শিক্ষার গুণগত মান এবং শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির দিকে নজর দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে প্রথমবারের মতো এনটিআরসিএ-র মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স