ঢাকা

মধ্যরাতে বার কাউন্সিল নির্বাচন স্থগিত, সংসদে তোলপাড় আখতার হোসেনের প্রশ্নে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
মধ্যরাতে নোটিশ দিয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচন স্থগিত করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। তিনি সরকারের সিদ্ধান্তের পেছনে প্রকৃত কারণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বিষয়টি স্পষ্ট করার দাবি জানান।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে আখতার হোসেন বলেন, সংসদে একদিকে জ্বালানিসংকট নেই বলা হচ্ছে, অন্যদিকে একটি সরকারি সংস্থা সেই ‘জ্বালানিসংকটের’ কারণ দেখিয়ে নির্বাচন স্থগিত করছে—এটি পরস্পরবিরোধী অবস্থান।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “মূল ইস্যুটা কী—আসলে কি জ্বালানিসংকট, নাকি কোনো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত?”

মধ্যরাতে স্থগিতাদেশ নিয়ে প্রশ্ন

আখতার হোসেন জানান, বুধবার মধ্যরাতে একটি নোটিশের মাধ্যমে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল নির্বাচন স্থগিত করা হয়। নোটিশে বলা হয়, দেশে তীব্র জ্বালানিসংকটের কারণে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বার কাউন্সিল একটি সংবিধিবদ্ধ ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হলেও এর সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের সংযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কারণ দেখিয়ে নির্বাচন স্থগিত করা হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

নিয়মিত নির্বাচন ও অ্যাডহক কমিটি প্রসঙ্গ

সংসদে আখতার হোসেন আরও বলেন, বিধান অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর বার কাউন্সিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে—যেমন মহামারি বা জরুরি দুর্যোগ—এক বছরের জন্য অ্যাডহক কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, করোনা পরিস্থিতির সময় অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছিল, কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নির্বাচন না দিয়ে সেই কমিটি বহাল রাখা হয়। পরবর্তীতে নির্বাচনের জন্য ১৯ মে তারিখ নির্ধারণ করা হলেও তা স্থগিত করা হয়েছে।

‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে’—আখতার হোসেন

আখতার হোসেন বলেন, নির্বাচন স্থগিতের ব্যাখ্যা নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তিনি সংসদে দাবি করেন, বিষয়টি স্পষ্ট করা জরুরি এবং জ্বালানি মন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর বক্তব্য এ বিষয়ে প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “আমরা যখন সংসদে জ্বালানিসংকট নেই বলি, তখন নির্বাচন স্থগিত করা হয় জ্বালানিসংকট দেখিয়ে—এটা পরিষ্কার করা দরকার।”

এ সময় তিনি ডেপুটি স্পিকারের প্রতি আহ্বান জানান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সংসদে বিবৃতি দিতে বলা হোক।

আইনমন্ত্রীর ব্যাখ্যা

আলোচনার জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি শুধু জ্বালানিসংকটের কারণে নয়, বরং আরও যৌক্তিক ও আইনগত কারণ রয়েছে, যা আখতার হোসেন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেননি।

তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরই বার কাউন্সিল নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বার কাউন্সিল একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজস্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

আইনমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা বারসহ কয়েকটি বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত জটিলতা ও সময়সূচির কারণে নির্বাচন পেছানোর অনুরোধ জানায়। তাদের সেই অনুরোধ বিবেচনায় নিয়েই বার কাউন্সিল নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়।

তিনি আরও বলেন, সরকার বার কাউন্সিলের কার্যক্রমে কোনো হস্তক্ষেপ করেনি এবং ভবিষ্যতেও স্বাধীনভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পক্ষে অবস্থান থাকবে।

রাজনৈতিক বিতর্কের নতুন মাত্রা

বার কাউন্সিল নির্বাচন স্থগিতকে কেন্দ্র করে সংসদে উত্থাপিত এ বিতর্ক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক ব্যাখ্যার ভিন্নতা নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে জ্বালানিসংকটের যুক্তি, অন্যদিকে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক কারণ—এই দ্বৈত ব্যাখ্যা জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে, যা ভবিষ্যতে আরও স্পষ্ট নীতিগত ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।

সংসদ অধিবেশন মুলতবি

দিবসের আলোচনার শেষে জাতীয় সংসদের অধিবেশন আগামী রোববার বেলা ৩টা পর্যন্ত মুলতবি করা হয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স