ঢাকা

হেগসেথের বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক, সিনেমার ডায়ালগকে বাইবেলের বাণী দাবি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনে অনুষ্ঠিত এক প্রার্থনা সভায় ধর্মীয় বাণীর নামে চলচ্চিত্রের সংলাপ উদ্ধৃত করার অভিযোগে নতুন বিতর্কে জড়িয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে এবং কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা তাঁর বিরুদ্ধে অভিশংসনের দাবিও তুলেছেন।

প্রার্থনা সভায় ‘ভুল উদ্ধৃতি’ নিয়ে বিতর্ক

গত বুধবার পেন্টাগনে আয়োজিত এক প্রার্থনা সভায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলের জন্য প্রার্থনা করেন হেগসেথ। সেখানে তিনি দাবি করেন, তাঁর বক্তব্যের ভিত্তি বাইবেলের “ইজেকিয়েল” অধ্যায়।

তবে পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এবং অন্যান্য বিশ্লেষণে উঠে আসে, হেগসেথ যে অংশ উদ্ধৃত করেছেন, সেটি বাইবেলের মূল পাঠের সঙ্গে সরাসরি মিল নেই এবং এতে চলচ্চিত্র সংলাপের প্রভাব রয়েছে।

চলচ্চিত্র সংলাপের সঙ্গে মিল

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হেগসেথের উদ্ধৃত বক্তব্য জনপ্রিয় হলিউড চলচ্চিত্র Pulp Fiction-এর একটি সংলাপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিলে যায়। ছবিটির পরিচালক কোয়েন্টিন টারান্টিনো।

চলচ্চিত্রটিতে অভিনেতা স্যামুয়েল এল জ্যাকসন-এর চরিত্র জুলস উইনফিল্ড যে সংলাপ ব্যবহার করেন, সেখানে ধর্মীয় ভাষার সঙ্গে সহিংস প্রতিশোধের ধারণা মিশে থাকে। অভিযোগ উঠেছে, সেই সংলাপকেই আংশিক পরিবর্তন করে প্রার্থনার ভাষায় ব্যবহার করা হয়েছে।

বাইবেলের মূল পাঠ বনাম উদ্ধৃত বক্তব্য

ধর্মীয় গ্রন্থ বাইবেল-এর “ইজেকিয়েল ২৫:১৭” অংশে মূল বক্তব্য সংক্ষিপ্তভাবে বলা হয়েছে—ঈশ্বর অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ ও বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন।

তবে হেগসেথের বক্তব্যে এই অংশকে সম্প্রসারিত করে সহিংসতা, প্রতিশোধ ও যুদ্ধের ভাষা যোগ করা হয়, যা মূল ধর্মীয় পাঠের তুলনায় অনেক বিস্তৃত ও নাটকীয়।

প্রার্থনা থেকে রাজনৈতিক বার্তা

প্রার্থনা সভায় হেগসেথ বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনকারী সেনাদের জন্য এই বক্তব্য “প্রেরণা” হিসেবে কাজ করবে। তিনি ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সেনাদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করছিলেন বলে জানা গেছে।

তবে সমালোচকদের মতে, ধর্মীয় বক্তব্যকে সামরিক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।

প্রতিক্রিয়া ও রাজনৈতিক চাপ

ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কয়েকজন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা বিষয়টিকে “ভুল তথ্য ছড়ানো এবং ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার” হিসেবে আখ্যা দিয়ে অভিশংসনের দাবি তুলেছেন।

অন্যদিকে প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র শন পারনেল বলেন, বক্তব্যে চলচ্চিত্র সংলাপের প্রভাব থাকলেও উদ্দেশ্য ছিল সেনাদের অনুপ্রাণিত করা।

দপ্তরের ব্যাখ্যা

পেন্টাগনের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, সমালোচকদের দাবি বিভ্রান্তিকর এবং ভুল তথ্যভিত্তিক। তারা দাবি করেন, হেগসেথ বাইবেলকেই উদ্ধৃত করার চেষ্টা করেছিলেন, যদিও বাস্তবে সেখানে সাহিত্যিক প্রভাব ছিল।

বিশ্লেষণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—

ধর্মীয় গ্রন্থের ভুল বা আংশিক উদ্ধৃতি কতটা সংবেদনশীল বিষয়
সামরিক বক্তৃতায় জনপ্রিয় সংস্কৃতির প্রভাব কতটা গ্রহণযোগ্য
রাজনৈতিক বার্তায় ধর্মের ব্যবহার কতটা নৈতিক

তাদের মতে, বিষয়টি শুধু একটি বক্তব্য ভুল নয়; বরং ধর্ম, রাজনীতি ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির মিশ্রণ নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।


পেন্টাগনের প্রার্থনা সভায় ধর্মীয় বাণীর নামে চলচ্চিত্রের সংলাপ ব্যবহারের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। যদিও প্রতিরক্ষা দপ্তর বিষয়টি ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছে, তবু সমালোচনা থামছে না।

এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়েছে—সামরিক ও রাজনৈতিক বক্তব্যে ধর্মীয় উদ্ধৃতি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ভুলতা ও সতর্কতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স