নগরীর আগ্রাবাদ এক্সেস রোডের সিঙ্গাপুর মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
হতাহতদের পরিচয়
নিহত: নিহত দুই শ্রমিকের নাম রাকিব ও তুষার। এদের মধ্যে তুষারের বাড়ি দিনাজপুর জেলায় এবং রাকিবের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় এখনও শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
আহত: আহত দুই শ্রমিক সাগর ও এরশাদ বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়াল্টি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা?
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং ওয়াসা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী:
ভোররাতের কাজ: বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে স্যুয়ারেজ প্রকল্পের পাইপ বসানোর জন্য মাটি খননের কাজ চলছিল। চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো এই প্রকল্পের ট্রায়াল পিট তৈরির কাজ করছিল।
আকস্মিক ধস: গভীর গর্তে নেমে চারজন শ্রমিক যখন কাজ করছিলেন, তখন হঠাৎ পাশের মাটি ধসে তাদের ওপর পড়ে। এতে তারা মাটির নিচে আটকা পড়েন।
উদ্ধার অভিযান: ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই তাদের দল উদ্ধার কাজ শুরু করে এবং মাটির নিচে চাপা পড়া চারজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া ও ক্ষতিপূরণ
ঘটনার পর চট্টগ্রাম ওয়াসা এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তদন্ত ও সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে:
তদন্ত রিপোর্ট: ওয়াসা’র তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, চীনা প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রোর কাছে এই দুর্ঘটনার বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরিবারের পাশে: নিহত শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যরা চট্টগ্রামে পৌঁছেছেন। প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম বলেন, “প্রাণের বিনিময়ে কোনো ক্ষতিপূরণ হয় না, তবুও আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলছি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যথাযথ আর্থিক সহায়তা পায়।”
আইনি প্রক্রিয়া: চট্টগ্রাম মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই নুরুল আলম জানিয়েছেন, আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুরো ঘটনার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


