ঢাকা

গাজায় নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত, হামাসের অবস্থান জানাল আল–জাজিরা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
গাজা উপত্যকার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা, যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণ প্রশ্নে নতুন করে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন Hamas স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা এখনই অস্ত্র সমর্পণ করবে না। তবে ভবিষ্যতে গাজার রাস্তায় প্রকাশ্যে অস্ত্র বহন সীমিত থাকবে এবং তা কেবলমাত্র পুলিশের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera–কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সংগঠনটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হুসাম বাদরান এ অবস্থান তুলে ধরেন।

অস্ত্র সমর্পণ নয়, তবে প্রকাশ্য অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত

হুসাম বাদরান বলেন, হামাস তাদের সামরিক সক্ষমতা বা অস্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো একতরফা সিদ্ধান্ত নেবে না। এ বিষয়ে ফিলিস্তিনের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, গাজা উপত্যকার প্রশাসনিক দায়িত্ব একটি প্রস্তাবিত জাতীয় কমিটির কাছে হস্তান্তরের পর রাস্তায় সাধারণভাবে অস্ত্র দেখা যাবে না। তবে পুলিশের সরকারি অস্ত্র ছাড়া অন্য কোনো অস্ত্র প্রকাশ্যে বহন করা যাবে না—এটি কোনো পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ নয়।

বাদরানের ভাষায়, “আমরা অস্ত্র সমর্পণের কথা বলছি না। আমরা বলছি, কেবল পুলিশের সরকারি অস্ত্র থাকবে প্রকাশ্যে। বাকি বিষয় জাতীয় পর্যায়ের আলোচনায় নির্ধারিত হবে।”

কায়রোতে নতুন আলোচনা ও রাজনৈতিক সমীকরণ

হামাস সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনটি মিসরের কায়রোয় নতুন দফা আলোচনায় অংশ নিতে প্রতিনিধি দল পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। আলোচনায় ফিলিস্তিনের আটটি প্রধান রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠী অংশ নিতে পারে, যার মধ্যে ইসলামিক জিহাদ, পিএফএলপি ও ডিএফএলপিও রয়েছে।

আলোচনার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি কাঠামো পুনরায় কার্যকর করা এবং ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নির্ধারণ করা।

তবে এরই মধ্যে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গুরুতর মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। হামাসের অভিযোগ, চুক্তির মানবিক প্রতিশ্রুতির বড় অংশই বাস্তবায়িত হয়নি।

যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন নিয়ে অভিযোগ

হামাসের দাবি, প্রতিদিন ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করার কথা থাকলেও বাস্তবে ঢুকছে ১৫০ থেকে ২৫০টি। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও হাসপাতাল অবকাঠামো এখনো ব্যাপকভাবে বিধ্বস্ত অবস্থায় রয়েছে।

সংগঠনটির মতে, যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের ৩০ শতাংশেরও কম প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেছে ইসরায়েলি পক্ষ। এই পরিস্থিতি দ্বিতীয় ধাপে অগ্রসর হওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে আন্তর্জাতিক চাপ

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি পক্ষ ভবিষ্যৎ শান্তি প্রক্রিয়ার মূল শর্ত হিসেবে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিরস্ত্রীকরণকে অপরিহার্য বলে মনে করছে। বিশেষ করে গাজায় প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ স্থিতিশীল করার জন্য অস্ত্র হস্তান্তরের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে।

জাতিসংঘে সাম্প্রতিক ব্রিফিংয়ে গাজাবিষয়ক আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা একটি ধাপে ধাপে অস্ত্র নিষ্ক্রিয়করণ পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে অস্ত্রগুলো ফিলিস্তিনি নেতৃত্বাধীন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।

প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তরে অনিশ্চয়তা

হামাস দাবি করছে, তারা গাজার প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা দায়িত্ব একটি জাতীয় কমিটির কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রস্তুত। তবে বাস্তবে সেই কমিটির ভূমিকা, প্রবেশাধিকার এবং কার্যকারিতা নিয়ে এখনও স্পষ্টতা নেই।

জাতীয় কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশ বা কোনো পক্ষের সঙ্গে সহযোগিতার প্রশ্নে তারা সতর্ক অবস্থানে আছে। আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ সম্ভব নয় বলেও তিনি জানান।

মানবিক পরিস্থিতির অবনতি

চলমান অস্থিরতার মধ্যে গাজায় মানবিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও সংঘাত ও হামলার ঘটনায় শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের দাবি।

গাজার স্বাস্থ্য অবকাঠামো প্রায় সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। বিদ্যুৎ ও চিকিৎসা সরবরাহের ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।

বিশ্লেষণ: অচলাবস্থার কেন্দ্রবিন্দু নিরস্ত্রীকরণ

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংকটের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো হামাসের নিরস্ত্রীকরণ বনাম রাজনৈতিক ক্ষমতা হস্তান্তরের শর্ত। এক পক্ষ নিরাপত্তা কাঠামো গঠনের আগে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চায়, অন্য পক্ষ রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া অস্ত্র ছাড়তে রাজি নয়।

এই দ্বিমুখী অবস্থান গাজা পরিস্থিতিকে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা অচলাবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা কূটনৈতিক সমাধানকে আরও জটিল করে তুলছে। আল–জাজিরা

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স