ঢাকা

ছুটির দিনেই কার্গো ভিলেজে আগুন, রহস্যের গন্ধ পাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে বারবার ছুটির দিনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় উদ্বেগ ও প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, একই ধরনের ঘটনা বারবার সাপ্তাহিক ছুটির সময় ঘটছে, যা স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে না।

ব্যবসায়ী মহলের মতে, গত বছরও কার্গো ভিলেজে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড হয়েছিল। কিন্তু সেই ঘটনার প্রকৃত কারণ কী ছিল, কারও অবহেলা ছিল কি না কিংবা দায়ীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

তাঁরা মনে করছেন, দায় নির্ধারণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতেও এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এজন্য প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১১টা ২৪ মিনিটের দিকে কার্গো ভিলেজের ৯ নম্বর গেট সংলগ্ন একটি মালামাল সংরক্ষণস্থলে আগুনের খবর পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে চারটি ইউনিট দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে এবং প্রায় ১৪ মিনিটের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এর আগে ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর একই কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় একাধিক ফায়ার স্টেশনের মোট ৩৭টি ইউনিট দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।

সর্বশেষ ঘটনায় ডিএইচএল কুরিয়ার সার্ভিসের পণ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত একটি কনটেইনারে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ও অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ফেডারেশন অব বাংলাদেশ কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বলেন, কার্গো ভিলেজে বারবার ছুটির দিনেই আগুন লাগার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁর মতে, এমন পুনরাবৃত্তির পেছনে কোনো বিশেষ কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্তে বেরিয়ে আসা উচিত।

এদিকে ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং সম্ভাব্য অবহেলা চিহ্নিত করতে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই অগ্নিকাণ্ডের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে শর্টসার্কিটের সম্ভাবনার কথা উঠে এলেও কেন বারবার এমন বৈদ্যুতিক ত্রুটি ঘটছে, সেটিও বড় প্রশ্ন। অতীতের অগ্নিকাণ্ডের তদন্তেও একই কারণ উল্লেখ করা হয়েছিল। তাই কোথাও না কোথাও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি বা গাফিলতির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

অন্যদিকে শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে অংশ নেন। তবে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো মন্তব্য না করেই বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স