জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সংসদ সদস্য Akhtar Hossain।
সোমবার সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের বিদ্যমান কাঠামোর “ঘুণে ধরা ব্যবস্থা” সংস্কার করা না গেলে গণভোটের মাধ্যমে জনগণের যে রায় পাওয়া যাবে, তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে।
Jatiya Sangsad-এ দেওয়া বক্তব্যে আখতার হোসেন বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ এমন একটি বাংলাদেশ প্রত্যাশা করেছিল, যেখানে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জবাবদিহি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত থাকবে। তাঁর ভাষায়, সেই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল কেবল একটি সরকার পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মৌলিক সংস্কার।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, অতীতে বাংলাদেশ কার্যত একক রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ছিল, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সময় তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রকে করায়ত্ত করে রেখেছিল”—এ ধরনের পরিস্থিতির কারণেই তারা রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি তুলেছিলেন।
তিনি আরও দাবি করেন, সংবিধানের ভেতরে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যেগুলো এক ধরনের “ফ্যাসিবাদী প্রবণতা” তৈরি করেছে বলে তাঁদের মূল্যায়ন ছিল। এসব পরিবর্তনের লক্ষ্যেই সংস্কার প্রস্তাবগুলো উত্থাপন করা হয়েছিল, তবে সেগুলো এখন কার্যত অগ্রগতি ছাড়া পড়ে আছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আলোচনায় তিনি দেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থানের কথাও উল্লেখ করেন। তার মতে, বাংলাদেশ এমন একটি অঞ্চলে অবস্থিত যেখানে বিভিন্ন ধরনের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের চারপাশের বাস্তবতায় শরণার্থীর চাপ বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার মতো চক্রান্তের আশঙ্কা রয়েছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে আখতার হোসেন বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো ধরনের চাপ বা পরাধীনতার চেষ্টা হলে রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে জাতীয় স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সংসদে দেওয়া তাঁর বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে রাষ্ট্র সংস্কার ও গণভোট বাস্তবায়ন সংক্রান্ত অবস্থানকে কেন্দ্র করে।