উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, জ্বালানি তেল নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। বর্তমানে দেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা অত্যন্ত স্থিতিশীল।
ডিজেলের মজুত ও আমদানির চিত্র
বর্তমান মজুত: বর্তমানে সরকারি ভাণ্ডারে ১ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল জমা রয়েছে।
পাইপলাইনে আমদানি: আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আরও ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বহনকারী জাহাজ দেশে পৌঁছাবে।
বাজার পরিস্থিতি: উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, দেশের কোনো ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন বা হাহাকার নেই, যা সরবরাহ স্বাভাবিক থাকারই প্রমাণ।
গণমাধ্যম ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা
সরকারের সমালোচনা এবং তথ্য প্রচার নিয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি:
গঠনমূলক সমালোচনা: সরকার সবসময়ই যুক্তিযুক্ত সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে এবং একে স্বাগত জানায়।
অপতথ্য রোধ: তবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুল তথ্য বা গুজব ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হলে তা বরদাশত করা হবে না। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার মাধ্যমে সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
জাতীয় নিরাপত্তা ও সীমান্ত পরিস্থিতি
দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং প্রতিবেশি দেশের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন:
জঙ্গি তৎপরতা: বাংলাদেশে জঙ্গি কার্যক্রমের কিছুটা ঝুঁকি থাকলেও তা বর্তমানে উদ্বেগজনক পর্যায়ে নেই। তিনি বলেন, এ বিষয়ে অতিরঞ্জিত কোনো তথ্য প্রচার যেমন ঠিক নয়, তেমনি একে একেবারে হালকাভাবে দেখারও সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সীমান্ত হত্যা হ্রাস: ডা. জাহেদ উর রহমান একটি ইতিবাচক তথ্য দিয়ে জানান যে, আগের তুলনায় সীমান্তে নিহতের হার প্রায় ৭৫ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। সরকার এই সংখ্যাকে শূন্যে নামিয়ে আনতে প্রতিবেশী দেশের সাথে জোরদার কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
সারসংক্ষেপ: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, জ্বালানি মজুত থেকে শুরু করে জাতীয় নিরাপত্তা—সব ক্ষেত্রেই সরকার নিয়ন্ত্রিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। অহেতুক আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক তথ্যের ওপর আস্থা রাখার জন্য তিনি দেশবাসীকে অনুরোধ করেন।