আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি–এর চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার শাসন কেমন হতে পারে, তা মাত্র দুই মাসেই দেশের জনগণ বুঝে গেছে। শনিবার সকালে দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত শোভাযাত্রা শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “বিএনপি আগের মতো দলীয়করণ, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারী কায়দায় রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, নাকি ঘোষিত ৩১ দফার ভিত্তিতে রাষ্ট্র সংস্কারের পথে হাঁটবে—গত দুই মাসে জনগণ তার একটি ধারণা পেয়েছে।” তাঁর দাবি, সাম্প্রতিক নানা ঘটনা ও পরিসংখ্যান ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর পরিবর্তন, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদে দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ, ক্রিকেট বোর্ডে হস্তক্ষেপ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দখল ও সহিংসতার ঘটনা, এমনকি থানার ভেতরে প্রতিপক্ষের ওপর হামলার মতো ঘটনাগুলো পরিস্থিতির অবনতি নির্দেশ করে। পাশাপাশি তিনি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট, বিদ্যুৎ পরিস্থিতির অবনতি এবং দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতির বিষয়টিও তুলে ধরেন।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান আরও বলেন, “অনেকে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিলেও তা বাস্তবে ধারণ করছেন না। দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।” তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা চলছে।
বিএনপির নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আপসহীন নেতৃত্বের প্রতীক ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দলের একজন নেতার বক্তব্যে দেশবাসী হতাশ হয়েছে।” তাঁর মতে, সংস্কার প্রশ্নে অস্পষ্টতা দেশের জন্য অস্বস্তিকর বার্তা বহন করে।
সমাবেশে দলের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, বর্তমান সময়ে নতুন রাজনৈতিক কাঠামো ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। “এবি পার্টি শুরু থেকেই যে সংস্কার প্রস্তাবগুলো সামনে এনেছিল, সেগুলো এখনো সমানভাবে প্রাসঙ্গিক,”—বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “পুরোনো ধ্যানধারণার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে জনগণকেন্দ্রিক নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য।”
দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সংলগ্ন বিজয়-৭১ চত্বর থেকে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করা হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা এতে অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি পল্টন মোড়, নাইটিংগেল ও কাকরাইল হয়ে আইডিইবি ভবন–এর সামনে গিয়ে শেষ হয়, যেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসাইন–এর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল ওহাব মিনার। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা, যার মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, এ বি এম খালিদ হাসান, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল বাসেত মারজানসহ ঢাকা মহানগরের নেতৃবৃন্দ।