ঢাকা

নোবেলজয়ী নার্গিস মোহাম্মদির শারীরিক অবস্থার অবনতি: পরিবারের গভীর উদ্বেগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
কারাবন্দী ইরানি মানবাধিকারকর্মী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নার্গিস মোহাম্মদি–এর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তাঁর পরিবার ও নোবেল কমিটি। তাঁকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরের দাবি জানানো হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা এএফপি–এর বরাতে জানা যায়, ৫৪ বছর বয়সী নার্গিস মোহাম্মদিকে উত্তর–পশ্চিম ইরান–এর একটি কারাগার থেকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, তাঁর চিকিৎসা শুরুতে বিলম্ব করা হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

গতকাল শনিবার নরওয়েতে বসবাসরত নার্গিসের ভাই হামিদরেজা মোহাম্মাদি বিবিসিকে জানান, হঠাৎ করেই তাঁর রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে গেছে এবং চিকিৎসকেরা এখনো তা স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে সক্ষম হননি।

এর আগে পরিবার জানিয়েছিল, গত মাসে উত্তর-পশ্চিম ইরানের জানজান কারাগারে নার্গিস মোহাম্মাদি হৃদরোগে আক্রান্ত হন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারাগারের অন্য বন্দীরা তাঁকে অচেতন অবস্থায় খুঁজে পান। পরিবার অভিযোগ করে, হৃদযন্ত্র, ফুসফুস ও রক্তচাপজনিত দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার পরও কারা কর্তৃপক্ষ তাঁকে সময়মতো হাসপাতালে পাঠায়নি।

হামিদরেজা মোহাম্মাদি বলেন, “বর্তমানে তাঁর প্রধান সমস্যা নিম্ন রক্তচাপ ও হৃদরোগজনিত জটিলতা। তেহরানের বিশেষায়িত হাসপাতালে নিয়ে গেলে পরিচিত চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসা দিতে পারবেন।”

এদিকে নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটির চেয়ারম্যান ইয়োর্গেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস বলেছেন, নার্গিস মোহাম্মাদির জীবন এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক মহলকে পরিস্থিতির দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

নার্গিস মোহাম্মাদি দীর্ঘদিন ধরে ইরানে মানবাধিকার, বিশেষ করে নারীর অধিকার ও মৃত্যুদণ্ডবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়। তাঁর প্রতিষ্ঠিত নার্গিস মোহাম্মাদি ফাউন্ডেশন–এর তথ্য অনুযায়ী, তিনি জীবনে অন্তত ১৩ বার গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং মোট ৩১ বছরের কারাদণ্ড ও ১৫৪টি বেত্রাঘাতের সাজা পেয়েছেন।

২০২১ সালে “রাষ্ট্রবিরোধী প্রচারণা” ও “জাতীয় নিরাপত্তাবিরোধী ষড়যন্ত্র” অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ১৩ বছরের কারাদণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে এসব অভিযোগ তিনি সবসময় অস্বীকার করে আসছেন।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে চিকিৎসার কারণে তাঁকে তেহরানের এভিন কারাগার থেকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হলেও পরে তিনি আবার গ্রেপ্তার হন। ওই সময় মাশহাদে একটি মানবাধিকারকর্মীর স্মরণসভায় বক্তব্য দেওয়ার পর তাঁকে আটক করা হয় এবং গ্রেপ্তারের সময় মারধরের অভিযোগও ওঠে।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে নতুন করে তাঁর বিরুদ্ধে সাত বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাঁর আইনজীবীরা জানান, “অপরাধমূলক উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়া এবং ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার” অভিযোগে এই সাজা দেওয়া হয়েছে—যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে নার্গিস মোহাম্মাদির স্বাস্থ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগ বাড়ছে। তাঁর পরিবার ও সমর্থকরা দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স