দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। বুধবার রাত ৯টার দিকে জাতীয় গ্রিডে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়, যা দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রশিদ খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের রেকর্ড ছিল ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট। ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই সেই উৎপাদন অর্জিত হয়েছিল। নতুন উৎপাদনের মাধ্যমে আগের রেকর্ড অতিক্রম করল বিদ্যুৎ খাত।
পাওয়ার গ্রিডের তথ্যমতে, রেকর্ড উৎপাদনের সময় বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৮৯৭ মেগাওয়াট। তবে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে ১৬ হাজার ৫০৫ মেগাওয়াট। ফলে ওই সময় প্রায় ৩৯২ মেগাওয়াট ঘাটতি মোকাবিলায় সীমিত আকারে লোডশেডিং করতে হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, গ্রীষ্ম মৌসুমে সন্ধ্যার পর বিদ্যুতের ব্যবহার দ্রুত বেড়ে যায়। বিশেষ করে বাসাবাড়িতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, ফ্যান ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের ব্যবহার বাড়ায় চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে।
দেশে উৎপাদিত বিদ্যুতের সবচেয়ে বড় অংশ ব্যবহার হয় আবাসিক খাতে। মোট ব্যবহারের প্রায় অর্ধেকের বেশি বিদ্যুৎ ঘরোয়া কাজে ব্যয় হয়। অন্যদিকে শিল্পকারখানা, বিশেষ করে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল ও ভারী শিল্পেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে।
বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, অফিস, বিপণিবিতান ও হোটেল-রেস্তোরাঁতেও বড় অংশের বিদ্যুৎ খরচ হয়। পাশাপাশি কৃষি, সেচ ও জনসেবামূলক কার্যক্রমেও বিদ্যুৎ ব্যবহার অব্যাহত রয়েছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৯ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। তবে জ্বালানি সরবরাহ, বিদ্যুৎকেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণ ও চাহিদার ওঠানামার কারণে বাস্তব উৎপাদন সব সময় সমান থাকে না।
রেকর্ড উৎপাদনের সময় সবচেয়ে বেশি বিদ্যুৎ এসেছে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে, যার পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৮১ মেগাওয়াট। এছাড়া গ্যাসচালিত কেন্দ্র, ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্র এবং ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎও জাতীয় গ্রিডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। জলবিদ্যুৎ ও বায়ুভিত্তিক উৎস থেকেও সামান্য পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে।