আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ভর্তি সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে Prime Minister's Education Assistance Trust। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক ও সমমান পর্যায়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য এই সহায়তা দেওয়া হবে।
প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ১৪ মে থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ১৪ জুন ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত।
এই কার্যক্রমের আওতায় Directorate of Secondary and Higher Education, Directorate of Technical Education এবং Madrasah Education Directorate–এর অধীন সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবে।
অনলাইনে আবেদন করতে হবে
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভর্তি সহায়তার আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক। শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ‘ই-ভর্তি সহায়তা ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি’–তে প্রবেশ করে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। আবেদনপত্রের কোনো হার্ড কপি জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সহায়তা মূলত আর্থিকভাবে অসচ্ছল কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত। তাই আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।
যেসব শিক্ষার্থী অগ্রাধিকার পাবে
নির্দেশিকা অনুযায়ী, এতিম শিক্ষার্থী, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী বা প্রতিবন্ধী অভিভাবকের সন্তান, দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত শিক্ষার্থী বা অভিভাবকের সন্তান, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান, নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী পরিবারের শিক্ষার্থী এবং জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীর সন্তানরা বিশেষভাবে আবেদন করতে পারবে।
তবে এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র আপলোড করা বাধ্যতামূলক।
শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত
ভর্তি সহায়তার জন্য আবেদনকারী শিক্ষার্থীকে পূর্ববর্তী শ্রেণিতে ন্যূনতম ৬০ শতাংশ নম্বর অথবা জিপিএ পদ্ধতিতে কমপক্ষে ৩ দশমিক ৫০ পেতে হবে।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীর বাবা-মা বা অভিভাবকের বার্ষিক আয় সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকার মধ্যে হতে হবে।
অসচ্ছলতার প্রমাণ হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র বা সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্রও জমা দিতে হবে।
যেসব কাগজপত্র লাগবে
আবেদনের সময় শিক্ষার্থীদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নথির স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের প্রত্যয়নপত্র
শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন সনদ
বাবা ও মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
শিক্ষার্থীর এক কপি ছবি
শিক্ষার্থী অথবা বাবা-মায়ের অনলাইন ব্যাংক হিসাবের তথ্য
সব নথি স্পষ্ট ও নির্ধারিত ফরম্যাটে আপলোড করার নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সহায়তার লক্ষ্য
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট বলছে, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে যেন কোনো শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ব্যাহত না হয়, সে লক্ষ্যেই এই সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন টিকিয়ে রাখতে এই ধরনের সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
হেল্পলাইন নম্বর
আবেদনসংক্রান্ত কোনো জটিলতা বা তথ্য জানতে কয়েকটি হেল্পলাইন নম্বর চালু রাখা হয়েছে। অফিস চলাকালে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নিম্নোক্ত নম্বরগুলোতে যোগাযোগ করা যাবে—
০২-৫৫০০০৪২৮
০১৭৭৮৯৫৮৩৫৬
০১৭৭৮৯৬৪১৫৬
কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে।