ঢাকা

সব ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে এনসিপির প্রতিবাদ কর্মসূচি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার বিচারের দাবিতে মশালমিছিল করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি–এর ঢাকা উত্তর মহানগর শাখা। একই সঙ্গে দেশে সংঘটিত সব ধর্ষণ, নারী নিপীড়ন ও হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবিও জানানো হয় কর্মসূচি থেকে।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সেখান থেকে একটি মশালমিছিল বের হয়ে বাংলামোটর, কাকরাইল ও শাহবাগ এলাকা প্রদক্ষিণ করে শাহবাগে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলজুড়ে অংশগ্রহণকারীরা ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান।

মশালমিছিল শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন আরিফুল ইসলাম আদীব, সাদিয়া ফারজানা এবং সাইফুল ইসলাম। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন দলের যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ মনসুর।

সমাবেশে আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, দেশে একের পর এক নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে, যা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগজনক। তিনি পল্লবীর শিশুর ঘটনার পাশাপাশি ক্যান্টনমেন্ট এলাকার তনু হত্যা, বসুন্ধরার মুনিয়ার মৃত্যু এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নিপীড়নের মতো ঘটনাগুলোর প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর অভিযোগ, সমাজের বিভিন্ন স্তরে ক্ষমতার অপব্যবহার ও নারীর প্রতি বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এসব অপরাধ বেড়ে চলেছে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ভেতরেও কখনও কখনও নেতৃত্বকে খুশি করার সংস্কৃতির আড়ালে যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটে থাকে, যা বন্ধে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে শক্ত অবস্থান নেওয়া প্রয়োজন।

সমাবেশে সাদিয়া ফারজানা বলেন, নারীকে নিয়ে সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। নারীদের প্রতি সম্মান, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিতের পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক সামাজিক সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন যুবশক্তির নেতা তৌহিদুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর উত্তরের যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক, ওয়াহিদ আলম, খালেদা আক্তার, নুর আমিন খান, ওয়াহিজ্জামান সুমন, রেহেনা আক্তার ও তাহমিনা শারমিনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।

সমাবেশ থেকে বক্তারা বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় রাজনৈতিক পরিচয় বা সামাজিক অবস্থান বিবেচনা না করে দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সমাজে অপরাধপ্রবণতা আরও বাড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স