কিউবাকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio। তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা খুবই সীমিত। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রেসিডেন্ট Donald Trump যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারেন।
বার্তা সংস্থা বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট Raúl Castro–এর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে হত্যার অভিযোগ আনার এক দিন পর এ মন্তব্য করেন রুবিও। ১৯৯৬ সালে দুটি বেসামরিক বিমান ভূপাতিত করে মার্কিন নাগরিকদের হত্যার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ওই ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখনো কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে বর্তমান কিউবান নেতৃত্বের সঙ্গে এমন সমাধানে পৌঁছানোর সম্ভাবনা খুব বেশি দেখছেন না তিনি।
রুবিও বলেন, “আমি সত্য কথাই বলছি। বর্তমানে যাদের সঙ্গে আমরা কাজ করছি, তাতে সমঝোতার সম্ভাবনা খুব একটা নেই।”
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, কিউবা পুরো অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।
কিউবার পাল্টা প্রতিক্রিয়া
তবে কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী Bruno Rodríguez Parrilla সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রুবিওর বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, কিউবা কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি ছিল না। বরং যুক্তরাষ্ট্র কিউবার বিরুদ্ধে ‘নির্দয় ও পরিকল্পিতভাবে’ চাপ সৃষ্টি করছে।
ব্রুনো রদ্রিগুয়েজের অভিযোগ, মার্কো রুবিও মূলত সামরিক উত্তেজনা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
রাউল কাস্ত্রোকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার ইঙ্গিত
গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল Todd Blanche মিয়ামিতে সংবাদ সম্মেলনে রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে কাস্ত্রো ‘নিজ ইচ্ছায় অথবা অন্য কোনোভাবে’ বিচারের মুখোমুখি হতে সেখানে উপস্থিত হবেন।
এ বিষয়ে সাংবাদিকেরা জানতে চাইলে রুবিও সরাসরি পরিকল্পনা প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, “আমরা যদি তাঁকে এখানে আনার চেষ্টা করি, তাহলে সেই পরিকল্পনা গণমাধ্যমকে কেন জানাব?”
এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অনেক বিশ্লেষক এর সঙ্গে চলতি বছরের শুরুতে Nicolás Maduro–কে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের তুলনা টানছেন।
জ্বালানিসংকটে বিপর্যস্ত কিউবা
বর্তমানে কিউবা ভয়াবহ জ্বালানিসংকটের মধ্যে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা ও তেল সরবরাহে বাধার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। দেশজুড়ে দীর্ঘ সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাট, খাদ্য সংকট ও অর্থনৈতিক অস্থিরতায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প কিউবাকে একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ বলে মন্তব্য করেন। তবে তিনি দাবি করেন, তাঁর প্রশাসন মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেশটিকে সহযোগিতা করতে চায়।
ট্রাম্প বলেন, “৫০-৬০ বছর ধরে অন্য প্রেসিডেন্টরা এ সমস্যার সমাধান খুঁজেছেন। মনে হচ্ছে, হয়তো আমিই সেটা করতে পারব।”
কিউবার সামরিক ব্যবসা গোষ্ঠীর কর্মকর্তার বোন গ্রেপ্তার
মার্কো রুবিও আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রে Adis Lastres Morera–কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি কিউবার সামরিক বাহিনী পরিচালিত একটি বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর শীর্ষ কর্মকর্তার বোন।
রুবিওর অভিযোগ, ফ্লোরিডায় বসবাস করলেও তিনি একই সঙ্গে হাভানার কমিউনিস্ট সরকারকে সহায়তা করছিলেন। বর্তমানে তাঁকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং বহিষ্কারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আটক রাখা হবে।
চীন ও রাশিয়ার তীব্র প্রতিক্রিয়া
রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে অভিযোগ আনার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে China ও Russia।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রকে কিউবার বিরুদ্ধে ‘জবরদস্তি’ ও ‘হুমকির রাজনীতি’ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হাভানার ওপর ওয়াশিংটনের চাপ ‘সহিংসতার কাছাকাছি’ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কিউবাকে কেন্দ্র করে নতুন করে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা শুধু ওয়াশিংটন ও হাভানার সম্পর্কেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর প্রভাব বৃহত্তর ভূরাজনীতিতেও পড়তে পারে। বিশেষ করে রাশিয়া ও চীনের প্রকাশ্য অবস্থান এই সংকটকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
এদিকে সমালোচকেরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের কিউবা নীতি ক্রমেই কঠোর ও সংঘাতমুখী হয়ে উঠছে। দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক অবরোধে থাকা দেশটির ওপর নতুন চাপ আরোপ পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।