ইসরায়েলি সেনাদের হেফাজতে থাকা অবস্থায় ফ্লোটিলার অধিকারকর্মীরা ভয়ংকর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার নৌবহর থেকে আটক থাকা অধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন, তাঁদের হাঁটুতে ভর দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হয়েছে, মারধর করা হয়েছে এবং তিন দিন খাবার ছাড়া থাকতে হয়েছে। এমনকি শৌচাগারের পানি পান করতে হয়েছে।
ফ্লোটিলা নৌবহরটি গাজার ওপর আরোপিত নৌ-অবরোধ ভাঙার উদ্দেশ্যে ছিল এবং ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। তবে ইসরায়েলি বাহিনী নৌযানগুলোকে আটক করে ৪৫০ জনেরও বেশি অধিকারকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। এর মধ্যে কিছু অধিকারকর্মী পরে মুক্তি পেয়ে ইতালিতে পৌঁছেছেন।
ইতালীয় সংবাদ সংস্থা এএনএসএর প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকারকর্মী চেজারে তোফানি রোমে ফিরে বলেছেন, “আমাদের সঙ্গে ভয়ংকর ব্যবহার করা হয়েছে। সেনাদের হেফাজতে থাকার পর পুলিশের হাতে হস্তান্তরিত হলে আরও হয়রানি করা হয়।” ইতালির ইসলামিক কমিউনিটিজ ইউনিয়নের সভাপতি ইয়াসিন লাফরামও মিলানে উপস্থিত হয়ে অধিকারকর্মীদের সঙ্গে বর্বর আচরণের অভিযোগ করেছেন।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে জানা যায়, ইতালীয় সাংবাদিক সাভেরিও তোমাসি বলেছেন, “ইসরায়েলি সেনারা ওষুধ দেয়নি, বন্দীদের সঙ্গে বানরের মতো আচরণ করেছিল। হাসাহাসি ও বিদ্রূপ করা হয়েছিল।” এছাড়া সেনারা কুকুর লেলিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছিল এবং বন্দুকের লেজার লাইট ব্যবহার করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল।
অধিকারকর্মীদের মধ্যে ছিলেন জলবায়ুবিষয়ক আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনবার্গ, নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি মান্ডলা ম্যান্ডেলা এবং কয়েকজন ইউরোপীয় আইনপ্রণেতা। তাঁরা জানিয়েছেন, গ্রেটাকে মাটিতে টেনে নেওয়া হয়েছে, ইসরায়েলি পতাকায় চুমু খেতে বাধ্য করা হয়েছে এবং মিথ্যা প্রচারণার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।
মালয়েশিয়ার অভিনেত্রী ও গায়িকা হেলিজা হেলমি ও হাজওয়ানি হেলমি বলেন, “আমাদের সঙ্গে বর্বর ও নিষ্ঠুর আচরণ করা হয়েছে। কেউ অসুস্থ হলে সেনারা বলেছে, ‘মরে গেছে নাকি? তা আমার দেখার বিষয় নয়।’ আমরা তিন দিন খাইনি, শুধু শৌচাগারের পানি খেয়েছি।”
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এসব অভিযোগকে খারাপ প্রচারণা বলে অভিহিত করেছেন। বেন-গভির বলেন, “ফ্লোটিলা কর্মীদের সঙ্গে আমরা সন্ত্রাসীদের মতো আচরণ করেছি। যারা সন্ত্রাস সমর্থন করে, তাদের এমন আচরণই প্রাপ্য।”
বিশ্বজুড়ে ফ্লোটিলার অধিকারকর্মীদের উপর নির্যাতন নিয়ে পাকিস্তান, তুরস্ক, কলম্বিয়া সহ বিভিন্ন দেশ নিন্দা জানিয়েছে। গ্রিস লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছে। তবে এখনও অনেক অধিকারকর্মী ইসরায়েলে আটক রয়েছেন।