শুধু ডিগ্রি প্রদান নয়, বরং দক্ষ, উদ্ভাবনী ও প্রযুক্তি–সচেতন মানবসম্পদ গড়ে তোলাই বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সি আর আবরার। তিনি বলেন, বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন এখন সময়ের দাবি।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত ‘এনডব্লিউপিজিসিএল বুয়েট রোবো কার্নিভ্যাল ২০২৬’–এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ ও শিক্ষার ভূমিকা
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বিশ্ব বর্তমানে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এক গভীর রূপান্তরকাল অতিক্রম করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, তথ্য–উপাত্ত বিশ্লেষণ এবং স্বয়ংক্রিয়করণ প্রযুক্তি দ্রুত বৈশ্বিক অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থাকে বদলে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, “এই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে হলে শিক্ষার্থীদের কেবল পাঠ্যভিত্তিক জ্ঞান নয়, বরং প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা এবং উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটাতে হবে। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কর্মবাজারে টিকে থাকতে এর কোনো বিকল্প নেই।”
রোবো কার্নিভ্যাল: প্রদর্শনীর বাইরে একটি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সি আর আবরার বলেন, রোবো কার্নিভ্যাল কেবল একটি প্রযুক্তি প্রদর্শনী নয়; এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রূপরেখা তৈরির একটি কার্যকর ও শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম। এই ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণামুখী মানসিকতা তৈরি করবে এবং উদ্ভাবনী চিন্তা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ গবেষণা ও শিল্প খাতের বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধ তৈরি করে, যা দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিকসে ভবিষ্যৎ জ্বালানি ব্যবস্থাপনা
অনুষ্ঠানের মূল প্রতিপাদ্য ‘ভবিষ্যতের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাচালিত রোবোটিকস’ প্রসঙ্গে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, শক্তি ও বিদ্যুৎ খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রোবোটিকসের ব্যবহার বাড়ানো গেলে উৎপাদন দক্ষতা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা জোরদার এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
তিনি বলেন, “বিদেশি প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে আমাদের নিজস্ব গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশকে স্বনির্ভর করতে হবে। এ জন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিল্প খাতের মধ্যে একটি শক্তিশালী ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলা জরুরি।”
বুয়েট–এনডব্লিউপিজিসিএলের যৌথ উদ্যোগের প্রশংসা
বুয়েট এবং নর্থ–ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেডের (এনডব্লিউপিজিসিএল) যৌথ উদ্যোগকে দৃষ্টান্তমূলক উল্লেখ করে শিক্ষা উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন, এই আয়োজন থেকে এমন একদল প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানী উঠে আসবেন, যাঁরা দেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও জ্বালানি খাতের আধুনিকায়নে নেতৃত্ব দেবেন।
উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবিদ ও শিল্পখাতের প্রতিনিধিরা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বুয়েটের উপাচার্য, সংশ্লিষ্ট অনুষদের ডিনবৃন্দ, এনডব্লিউপিজিসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।