ঢাকা

ইউক্রেন ও রাশিয়ার শান্তি আলোচনা শুরু, প্রথম দিনেই ফলপ্রসূ অগ্রগতি

-

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনার প্রথম দিন ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানিয়েছেন উভয় দেশের কর্মকর্তারা।

কিয়েভের প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভ বুধবার বৈঠকের পর বলেন, “কাজটি গুরুত্বপূর্ণ এবং ফলপ্রসূ ছিল; আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বাস্তবসম্মত সমাধান নিশ্চিত করা।” উমেরভ ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের প্রধান

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা একইভাবে বৈঠককে ফলপ্রসূ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার (আজ) আলোচনার দ্বিতীয় দিন শুরু হবে।


চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপট

শান্তি আলোচনার মাঝেও ইউক্রেনে যুদ্ধ চলছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে এটি সবচেয়ে বড় সংঘাত। বৈঠক শুরুর আগের দিন, গত মঙ্গলবার, রাশিয়া রেকর্ডসংখ্যক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সংক্ষিপ্ত যুদ্ধবিরতিকে কাজে লাগিয়ে রাশিয়া প্রচুর গোলাবারুদ মজুত করেছে।

বুধবার রাতে নিয়মিত ভিডিও ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, “এ আলোচনা যেন বাস্তব শান্তির পথে অগ্রসর হয়, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধের মাঝেও রাশিয়া যেন সুবিধা নিয়ে হামলা চালাতে না পারে।”

তিনি আরও বলেন, “ইউক্রেন আশা করছে, আলোচনার মাধ্যমে শিগগির নতুন বন্দিবিনিময় সম্পন্ন হবে। আমাদের অংশীদারদের মস্কোর ওপর আরও বেশি চাপ প্রয়োগ করতে হবে।”


মানবিক ও সামরিক ক্ষতি

একই সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল ফ্রান্স-২–কে জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত ইউক্রেনীয় সেনার সংখ্যা প্রায় ৫৫ হাজার। তিনি এই তথ্যের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে মানবিক ও সামরিক বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।


বৈঠকের ত্রিপক্ষীয় কাঠামো

ত্রিপক্ষীয় এই শান্তি আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন:

  • ইউক্রেন – রুস্তেম উমেরভ নেতৃত্বে

  • রাশিয়া – উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল

  • যুক্তরাষ্ট্র – মধ্যস্থতায় সক্রিয়

বৈঠক দুই দিনব্যাপী চলবে। প্রথম দিনের ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছে যে, উভয় পক্ষ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণে প্রস্তুত, কিন্তু যুদ্ধের অব্যাহত পরিস্থিতি আলোচনার জটিলতা বাড়াচ্ছে।


এই আলোচনার ফলাফল এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের দিকে বিশ্বজুড়ে কড়া নজর রাখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শান্তি আলোচনার ফলপ্রসূতা কেবল কূটনৈতিক শর্তাবলীর উপর নয়, বরং যুদ্ধক্ষেত্রে বাস্তব নিয়ন্ত্রণ এবং রাশিয়ার প্রতিক্রিয়ার উপরও নির্ভর করবে।





কমেন্ট বক্স