প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সাম্প্রতিক ঢাকা সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর ও কৌশলগত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে বিবেচিত হবে। শনিবার ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্ক ভবিষ্যতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে কয়েকটি নতুন উদ্যোগে সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের অংশগ্রহণে নিয়মিত ‘২+২ সংলাপ’ চালু করা। পাশাপাশি বিদ্যমান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পর্যায়ের বার্ষিক বৈঠককে মন্ত্রী পর্যায়ে উন্নীত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
সফর শেষে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় হাকান ফিদান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের সম্পর্ক কেবল পারস্পরিক স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং কঠিন সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর ঐতিহাসিক বন্ধনের ভিত্তিতেও গড়ে উঠেছে। তিনি ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা বিস্তৃত করতে সংশ্লিষ্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের তত্ত্বাবধানে একটি যৌথ পরামর্শক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে উভয় দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন এবং সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে নিয়মিত কাজ করবেন।
তিন দিনের বাংলাদেশ সফরের সমাপনী আয়োজন হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষভাবে গুরুত্ব পায় রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, যৌথ উৎপাদন উদ্যোগ এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন সমসাময়িক ইস্যু।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সফরের জন্য হাকান ফিদানকে ধন্যবাদ জানান এবং সুবিধাজনক সময়ে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
অন্যদিকে, হাকান ফিদান তুরস্কের প্রেসিডেন্টের শুভেচ্ছা বার্তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন। বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।