যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu “জটিল প্রকৃতির মানুষ” এবং তিনি ইরানের সঙ্গে চলমান শান্তিচুক্তির উদ্যোগকে প্রায় ভেস্তে দিয়েছিলেন।
গত রোববার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera–এর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। একই বিষয়ে তিনি মার্কিন দৈনিক The New York Times–কে দেওয়া ২৮ মিনিটের টেলিফোন সাক্ষাৎকারেও বিস্তৃত মন্তব্য করেন।
“ইসরায়েল দুই ঘণ্টাও টিকত না”—ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানের কাছে যদি পারমাণবিক অস্ত্র থাকত, তবে ইসরায়েলের অস্তিত্ব দীর্ঘস্থায়ী হতো না।
তিনি বলেন, “সত্যি বলতে, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা থাকলে ইসরায়েল দুই ঘণ্টাও টিকত না।”
এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে নেতানিয়াহুর সমালোচনা
ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন, লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান শান্তি প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল।
তার ভাষায়, এসব হামলা প্রায় পুরো কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে “ভেস্তে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি” তৈরি করেছিল।
তিনি দাবি করেন, অতিরিক্ত সামরিক পদক্ষেপের কারণে আলোচনায় অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়।
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির পেছনে সামরিক চাপের ভূমিকা
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের ওপর চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা দেশটিকে আলোচনায় বসতে বাধ্য করেছে।
তিনি বলেন, “ওরা তৃতীয় দফা হামলা চায়নি। তারা জীবন নিয়ে ভাবছিল।”
তার মতে, সামরিক চাপই চুক্তি প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে এবং ইরানকে আলোচনায় আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
চুক্তি ও কূটনৈতিক অগ্রগতি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে।
চুক্তি কার্যকর হলে বিশ্ববাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত জলপথ Hormuz Strait জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে বলেও ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন।
এই প্রণালি বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে বিবেচিত।
যুদ্ধ ও ভবিষ্যৎ হুঁশিয়ারি
ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, যদি ইরান চূড়ান্ত পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আবার সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
তার এই মন্তব্য নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মত।
সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপট
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়। এর জবাবে ইরান পাল্টা হামলা চালালে পুরো অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এর পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন কমানোর চেষ্টা চলছিল, যার অংশ হিসেবে এই সম্ভাব্য চুক্তি সামনে আসে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে নিয়ে ট্রাম্পের কড়া মন্তব্য এবং ইরান–যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তি নিয়ে তার ব্যাখ্যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
একদিকে তিনি চুক্তিকে যুদ্ধ এড়ানোর উপায় হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে নেতানিয়াহুর ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্য সমালোচনা মধ্যপ্রাচ্যের জটিল কূটনৈতিক সমীকরণকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে।