ঢাকা

ক্যালিফোর্নিয়ায় উড্ডয়নের পরই বিধ্বস্ত এফ–৩৫বি, প্রাণে বাঁচলেন পাইলট

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে একটি এফ-৩৫বি (F-35B) স্টেলথ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার ঠিক আগে জরুরি ইজেকশন ব্যবস্থার মাধ্যমে বিমান থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হওয়ায় পাইলট প্রাণে বেঁচে গেছেন। দেশটির মেরিন কোর জানিয়েছে, পাইলটের অবস্থা স্থিতিশীল এবং তাঁর আঘাত গুরুতর নয়।

শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর মিরামার মেরিন কর্পস এয়ার স্টেশনের (MCAS Miramar) কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ।

নিরাপদে বেরিয়ে আসেন পাইলট

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে পাইলট সফলভাবে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়।

প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে জানানো হয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল এবং গুরুতর কোনো আঘাত পাননি।

ধ্বংসাবশেষে আগুন, ছড়িয়ে পড়ে ঝোপঝাড়ে

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের হেলিকপ্টার থেকে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, খোলা মাঠে বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানটির ধ্বংসাবশেষ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। ঘটনাস্থলে সামরিক বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও জরুরি উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা দ্রুত পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।

ধ্বংসাবশেষের চারপাশে আগুন নিয়ন্ত্রণে বিশেষ রাসায়নিক পদার্থ ছিটানো হয় এবং ফায়ার হোস ব্যবহার করে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালানো হয়।

সান ডিয়েগো ফায়ার সার্ভিস বিভাগের মুখপাত্র ক্যান্ডেস হ্যাডলি জানান, যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর আশপাশের ঝোপঝাড়েও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরে অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

‘টপ গান’-এর ঐতিহাসিক ঘাঁটির কাছেই দুর্ঘটনা

যে মিরামার বিমানঘাঁটির কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটি একসময় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর বিখ্যাত যুদ্ধবিমান চালক প্রশিক্ষণকেন্দ্র ছিল।

হলিউডের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘টপ গান’-এর মূল প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবেও এ ঘাঁটির পরিচিতি রয়েছে। সে সময় এটি ‘ফাইটারটাউন ইউএসএ’ নামে পরিচিত ছিল।

১৯৯৬ সালে ঘাঁটিটি যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন কোরের অধীনে হস্তান্তর করা হয়। এরপর যুদ্ধবিমান চালকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম নেভাদা অঙ্গরাজ্যের নেভাল এয়ার স্টেশন ফ্যালনে স্থানান্তর করা হয়।

এফ-৩৫বি কেন বিশেষ?

এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের তিনটি প্রধান সংস্করণের মধ্যে এফ-৩৫বি সবচেয়ে বিশেষ বৈশিষ্ট্যের একটি মডেল।

এটি স্বল্প দূরত্বের রানওয়ে থেকে উড্ডয়ন করতে পারে এবং প্রয়োজন হলে খাড়াভাবে (Vertical Landing) অবতরণও করতে সক্ষম। এ কারণে এটি যুদ্ধক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়।

বর্তমানে একটি এফ-৩৫বি যুদ্ধবিমানের মূল্য প্রায় ১০ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার।

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রয়েছে ৬৩০টির বেশি এফ-৩৫

যুক্তরাষ্ট্রের গভর্নমেন্ট অ্যাকাউন্টেবিলিটি অফিস (জিএও)-এর ২০২৪ সালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশটির মেরিন কোর, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর বহরে বর্তমানে ৬৩০টিরও বেশি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান রয়েছে।

জিএওর হিসাব অনুযায়ী, ভবিষ্যতে আরও ১ হাজার ৮০০টির বেশি এফ-৩৫ সংগ্রহ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণসহ পুরো কর্মসূচির ব্যয় প্রায় ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ২ লাখ কোটি ডলার) ছাড়িয়ে যেতে পারে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সামরিক বিমান কর্মসূচিগুলোর একটি।

চলতি বছরেই একাধিক সামরিক বিমান দুর্ঘটনা

ফ্লাইট সেফটি ফাউন্ডেশনের এভিয়েশন সেফটি নেটওয়ার্ক–এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত সাতটি সামরিক বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে।

এর মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে জুন মাসে। ক্যালিফোর্নিয়ার মোজাভি মরুভূমি থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর একটি বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হলে বিমানে থাকা আটজনের সবাই নিহত হন।

সর্বশেষ এফ-৩৫বি বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও এটি যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান বহরের নিরাপত্তা ও পরিচালনা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে মার্কিন মেরিন কোর আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স