ঢাকা

'পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে দেওয়া হবে না'—সরকারকে হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
সরকার খুব শিগগিরই জনগণের প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। একই সঙ্গে গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে পেট্রোবাংলা ঘেরাওয়ের কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার রাতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে হবিগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচি ঘিরে সংঘর্ষে গুরুতর আহত আলিফ চৌধুরীকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।

‘গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনগণের ওপর চাপ বাড়ানো হচ্ছে’

নাহিদ ইসলাম বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যেই দফায় দফায় জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে। তাঁর দাবি, পেট্রোবাংলা আবারও গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে এবং শিগগিরই আবাসিক খাতেও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হতে পারে।

তিনি অভিযোগ করেন, মানুষ পর্যাপ্ত গ্যাস না পেলেও নিয়মিত বিল পরিশোধ করতে বাধ্য হচ্ছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র বা শিল্প ও পরিবহন খাতে গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই পড়বে।

এ সময় তিনি বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে পেট্রোবাংলা ঘেরাও করা হবে।

‘মানুষ রাজপথে নামবে’

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে জনগণ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে বলেও মন্তব্য করেন এনসিপির আহ্বায়ক।

তাঁর ভাষায়, সরকার যদি মনে করে এভাবেই পাঁচ বছর দেশ পরিচালনা করবে, তাহলে সেটি সম্ভব হবে না। খুব শিগগিরই জনগণের প্রবল প্রতিরোধের মুখে সরকার পড়বে।

‘পাঁচ বছর দেশ পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না’

সরকারকে উদ্দেশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের পাঁচ বছর দেশ পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না।

তিনি দাবি করেন, ‘৭০ শতাংশ গণভোটের রায়’ অস্বীকার করে কোনো সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে পারে না। তাঁর মতে, ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে সরকারকে দমন-পীড়ন ও নির্যাতনের পথেই হাঁটতে হবে, যা জনগণ মেনে নেবে না।

জনগণকে সম্ভাব্য আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

‘রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণ করা হচ্ছে’

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকার বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় লোকজনকে নিয়োগ দিচ্ছে।

তাঁর দাবি, ইতোমধ্যে ১২টি প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং পদবঞ্চিত নেতাদের পুনর্বাসনের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লক্ষ্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, তিনি নিজের দল পরিচালনা করতেই ব্যর্থ হয়েছেন।

তাঁর ভাষায়, যে ব্যক্তি নিজের দলের তৃণমূল নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না, তাঁর পক্ষে ১৮ কোটি মানুষের দেশ পরিচালনা করাও সম্ভব নয়।

আলিফ চৌধুরীর ঘটনার বিচার দাবি

হবিগঞ্জে সংঘর্ষে আহত এনসিপি কর্মী আলিফ চৌধুরীর বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, তাঁর একটি চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। অন্য চোখেও আঘাত লেগেছে এবং সেটির অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকেরা এখনো নিশ্চিত নন। চিকিৎসকদের বোর্ড সভার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

তিনি অভিযোগ করেন, ঘটনার তিন দিন পার হলেও সরকারের পক্ষ থেকে আহত কর্মীর কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি।

নাহিদ ইসলামের দাবি, ভিডিও ফুটেজে হবিগঞ্জ সদর থানা ছাত্রদলের সদস্যসচিবকে আলিফের ওপর হামলা করতে দেখা গেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সাংগঠনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তাঁর মতে, এর মাধ্যমে সরকার একটি বার্তা দিয়েছে যে, ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে হামলা চালালেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।

‘আইনের শাসন নেই’

নাহিদ ইসলাম বলেন, এ ধরনের ঘটনায় বিচার না হওয়ায় দেশে আইনের শাসনের অভাব স্পষ্ট হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার-সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পুলিশ কিংবা বিচারব্যবস্থার তোয়াক্কা করছে না এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হচ্ছে।

অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁদের সন্তানরাও নিরাপদ নন। আজ আলিফের একটি চোখ নষ্ট হয়েছে, কাল অন্য কারও সন্তানেরও একই পরিণতি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

বিএনপির এমপির পদত্যাগ দাবি

সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদে তাঁরা গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের কথা বললেও নিজ নিজ এলাকায় ভিন্ন চিত্র দেখা যায়।

এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার ঘটনার পর হবিগঞ্জের বিএনপি সংসদ সদস্য জি কে গউছের জনপ্রতিনিধি হিসেবে থাকার নৈতিক অধিকার নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তাঁর দাবি, গণতান্ত্রিক দেশে এমন ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধির ক্ষমা চাওয়া, পদত্যাগ করা বা দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু এ বিষয়ে সরকার কিংবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য না আসায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, স্কুলশিক্ষার্থীদের অফিসে ডেকে ছবি তোলার মতো কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার বাস্তব পরিস্থিতি আড়াল করার চেষ্টা করছে, যা জনগণের সঙ্গে দ্বিচারিতার শামিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স