ঢাকা

শুক্রবারেই সম্পূর্ণ খুলছে হরমুজ প্রণালি: ট্রাম্প

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার নতুন চুক্তির সুবাদে আগামী শুক্রবারের (১৯ জুন) মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১৫ জুন) ফ্রান্সে আয়োজিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ভূ-রাজনৈতিক মন্তব্য করেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বাণিজ্যিক জলপথের বড় ধরনের সংকট কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমেরিকা-ইরান চুক্তির বিশদ বিবরণ, জলপথের নিরাপত্তা এবং মধ্যপ্রাচ্যের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:

যৌথ নৌ মিশন নাকচ ও মাইন অপসারণ কার্যক্রম
হরমুজ প্রণালির সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সের পক্ষ থেকে একটি যৌথ নৌ মিশন পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে বলেন, এই নৌপথটি উন্মুক্ত রাখতে তাদের খুব বেশি বাইরের সাহায্যের প্রয়োজন হবে না। তিনি জানান, কৌশলগত এই জলপথটি ইতিমধ্যেই আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধকালীন সময়ে সমুদ্রের নিচে ছড়িয়ে থাকা মাইনগুলো পুরোপুরি অপসারণের উদ্দেশ্যে সেখানে বর্তমানে বিশেষ তল্লাশি ও মাইন অনুসন্ধানের কাজ চলমান রয়েছে, যা আগামী শুক্রবারের মধ্যে সম্পূর্ণ নিরাপদ হয়ে উঠবে এবং সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে।

ইরানের নতুন নেতৃত্ব ও পারমাণবিক চুক্তি
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত এই নতুন সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, এই চুক্তির প্রধান ইতিবাচক দিক হলো ইরান আর কখনোই কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করতে পারবে না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তেহরানের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক বেশ ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। ইরানের বর্তমান অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন নিয়ে কিছুটা কৌতুকপূর্ণভাবে ট্রাম্প বলেন যে, প্রথম ও দ্বিতীয় সারির নেতারা চলে যাওয়ার পর তৃতীয় সারির যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা অত্যন্ত চতুর ও বুদ্ধিমান এবং শেষ পর্যন্ত তাদের সঙ্গেই এই চুক্তিটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। তবে তিনি সুনির্দিষ্টভাবে ইরানের কোনো নতুন নেতার নাম উল্লেখ করেননি।

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান
মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, এই অঞ্চলের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে এখন অনেক বড় এবং ইতিবাচক কিছু ঘটতে যাচ্ছে। তিনি আরও নিশ্চিত করেছেন যে, আগামী শুক্রবার এই ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তির মূল আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকবেন। তবে আন্তর্জাতিক সুরক্ষার স্বার্থে এই উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানটি ঠিক কোন দেশে বা কোথায় আয়োজিত হবে, তা নিরাপত্তার কারণে এখনই স্পষ্ট করা হয়নি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স