তামিল সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে এসে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া থালাপতি বিজয় বর্তমানে ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও আলোচনার কেন্দ্রে। তাঁর স্ত্রী সংগীতা স্বর্ণলিঙ্গমের করা বিবাহবিচ্ছেদের মামলা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি মামলাটির শুনানি আদালতে অনুষ্ঠিত হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
দীর্ঘ দাম্পত্যে ভাঙনের ইঙ্গিত
বিজয় ও সংগীতার বিয়ে হয় ১৯৯৯ সালে। প্রায় তিন দশকের সংসারজীবনের পর চলতি বছর বিচ্ছেদের আবেদন করেন সংগীতা। আবেদনে তিনি বৈবাহিক সম্পর্কে নানা জটিলতার কথা উল্লেখ করেছেন।
সম্পর্ক নিয়ে অভিযোগ
মামলার নথিতে সংগীতা দাবি করেছেন, বিজয়ের সঙ্গে এক নারী অভিনেত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে তাঁর মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে স্বামীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল এবং পরিস্থিতির উন্নতির আশ্বাসও পেয়েছিলেন। তবে পরে তিনি মনে করেন, সমস্যার সমাধান হয়নি।
এ ধরনের অভিযোগ আদালতে উত্থাপিত হলেও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে বিষয়টি আদালতের বিবেচনার মধ্যেই রয়েছে।
মানসিক চাপের অভিযোগ
সংগীতা আরও অভিযোগ করেছেন, পারিবারিক পরিস্থিতির কারণে তিনি এবং তাঁদের সন্তানরা মানসিকভাবে চাপে ছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ছবি ও আলোচনার কারণে ব্যক্তিগত জীবনও জনসমক্ষে চলে আসে বলে তিনি দাবি করেন।
এ ছাড়া আবেদনে পারিবারিক ও আর্থিক কিছু বিষয়ে মতবিরোধের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার প্রভাবে তিনি দীর্ঘ সময় মানসিক অস্বস্তির মধ্যে ছিলেন বলে আদালতে জানিয়েছেন।
আদালতের সর্বশেষ অবস্থান
মামলাটির আগের নির্ধারিত শুনানিতে পক্ষদ্বয়ের কেউ উপস্থিত না থাকায় আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। সাম্প্রতিক শুনানিতেও মামলার নিষ্পত্তি হয়নি; পরবর্তী শুনানির জন্য নতুন তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
ফলে বহুল আলোচিত এই মামলার আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে এবং আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে সংশ্লিষ্ট সবাই।
রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত চাপ
একদিকে রাজ্যের প্রশাসনিক দায়িত্ব, অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনের আইনি লড়াই—সব মিলিয়ে বিজয় বর্তমানে ব্যাপক জনআগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে। একই সময়ে তাঁর চলচ্চিত্রজীবনের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা চলছে।
তবে মনে রাখা জরুরি, আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে; সেগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।