জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতি অন্যায় ও অগণতান্ত্রিক শক্তির বিরুদ্ধে নতুন সংগ্রামের প্রেরণা জোগাবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেছেন, জুলাইয়ের শহীদেরা শুধু একটি সময়ের স্মৃতি নন, তাঁদের আত্মত্যাগ ভবিষ্যতের পথচলায় সাহস ও শক্তি জোগাবে।
মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শহীদদের স্মরণে ছাত্রদল আয়োজিত ‘আলোয় আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে অংশ নেন রিজভী।
‘আবু সাঈদের বুক দেখেছি’
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণ করতে গিয়ে রিজভী বলেন, এই আন্দোলন ছিল অভূতপূর্ব ও উদ্দীপ্ত এক গণআন্দোলন।
তিনি বলেন, “আমি চীনের প্রাচীর দেখিনি, আমি আবু সাঈদের বুক দেখেছি। চীনের প্রাচীরের মতো দাঁড়িয়ে থেকে কী করে গুলি খায়, সেই দৃশ্য আমি দেখেছি।”
শহীদদের আত্মত্যাগের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “আমি হিমালয় দেখিনি, আমি চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরামকে হিমালয়ের মতো দাঁড়িয়ে থেকে কী করে তপ্ত বুলেটকে নিজের বুকে বরণ করতে হয়, সেটি দেখেছি।”
তিনি বলেন, “আমি প্রশান্ত মহাসাগর দেখিনি, কিন্তু আহনাফের মায়ের চোখের জল দেখে প্রশান্ত মহাসাগরের কথা মনে পড়েছে।”
রিজভী বলেন, শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখতে হবে এবং সেই স্মৃতি যেন মানুষের বিবেককে জাগ্রত রাখে।
তিনি বলেন, “শহীদেরা চুপি চুপি আসবেন, আমাদের স্মৃতিতে আমরা শহীদদের ধারণ করব। আমাদের মনের মধ্যে যাতে কোনো ধরনের বিবেকহীন শব্দ জাগ্রত হতে না পারে, সেই তাড়না তাঁরা দেবেন।”
‘শহীদের স্মৃতি শুধু একটি দিন বা মাসের জন্য নয়’
জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগকে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রাখার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, “কোনো অগণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারী শক্তির যাতে আর আগমন না ঘটতে পারে, তাই তাঁদের স্মৃতি একটি মাস বা দিনের জন্য নয়।”
রিজভী বলেন, ছাত্রদল শুধু জুলাই-আগস্টের গণতন্ত্রের আন্দোলনেই নয়, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্ত ছিল। এ জন্য তিনি সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
‘পরাজিত শক্তির অবশিষ্টাংশ এখনো রয়েছে’
বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, “ফ্যাসিস্ট পরাজিত হয়েছে বটে। কিন্তু তার ভগ্নাংশ, অবশিষ্টাংশ এখনো রয়েছে নানা জায়গায়।”
তাঁর অভিযোগ, ওই শক্তি দেশের অর্থসম্পদ লুট করেছে এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ অপচয় করেছে।
রিজভী বলেন, “তারা দেশের টাকা চুরি করেছে, তারা পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, ফ্লাইওভারের টাকা চুরি করেছে। ওই টাকা তো শেষ হয়ে যায়নি, এখনো আছে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাস ও সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে তরুণ ও ছাত্রসমাজকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
রিজভী বলেন, “জাগ্রত তরুণ ও ছাত্রসমাজকে আরও লড়াই-সংগ্রাম ও উদ্দীপ্ত পথচলা মিছিলের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।”
মোমবাতি প্রজ্বালন ও জাতীয় সংগীত
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং মোমবাতি প্রজ্বালনের মাধ্যমে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এতে ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন।