স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দীর্ঘদিনের অপশাসনের ফলে দেশের স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি, অনিয়ম ও অর্থের অপচয় ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ প্রয়োজনীয় ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবে বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্বাস্থ্য খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে কাজ করে যাচ্ছে।
রোববার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) কার্যালয়ে আয়োজিত একটি কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে টিআইবির নতুন প্রকল্পের পরিচিতি তুলে ধরা হয় এবং এ বিষয়ে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হয়।
নারী ও কিশোরীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, পাশাপাশি সেবা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে টিআইবি নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার মাঠপর্যায় থেকে নীতিনির্ধারণী স্তর পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ স্বাস্থ্য খাতে সরকারের সংস্কার কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে।
অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, স্বাস্থ্য খাতে গবেষণা, জনসম্পৃক্ততা এবং নীতিগত পরামর্শ প্রদানে টিআইবি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। তিনি জানান, যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ যেন দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ উপায়ে ব্যয় হয়, সেদিকেও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন অনুবিভাগ) সৈয়দা নওশীন পর্ণিনী বলেন, পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে এটি মা ও শিশুস্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিন্নাত রেহানা বক্তব্য দেন। প্রকল্পের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন প্রকল্প সমন্বয়ক মুশফিকা মিজান।
আলোচনা পর্বে সভাপতিত্ব করেন টিআইবির উপদেষ্টা (নির্বাহী ব্যবস্থাপনা) অধ্যাপক সুমাইয়া খায়ের। এতে আরও অংশ নেন টিআইবির সিভিক এনগেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক ফারহানা ফেরদৌস এবং রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি বিভাগের পরিচালক মুহাম্মদ বদিউজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
টিআইবির এই প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীপুর ও নীলফামারী জেলার ১৬টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে সেবার মান, স্বচ্ছতা ও সুশাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
টিআইবির তথ্য অনুযায়ী, সুইডিশ সরকারের অর্থায়নে এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল গ্লোবাল হেলথের সহযোগিতায় পরিচালিত এই বহুদেশীয় প্রকল্প বাংলাদেশ ছাড়াও জাম্বিয়া, ইকুয়েডর ও তিউনিসিয়ায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।