ঢাকা

বিশ্বের কার্বন নির্গমন বাড়ার পেছনে বড় ভূমিকা যুক্তরাষ্ট্রের: প্রতিবেদন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
রয়টার্স

২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাত থেকে কার্বন নির্গমন বেড়েছে। এই বৃদ্ধির প্রায় এক-তৃতীয়াংশের জন্য দায়ী যুক্তরাষ্ট্র। গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আবারও কয়লার ওপর নির্ভরতা বাড়িয়েছে। ফলে পরিবেশবান্ধব জ্বালানিতে রূপান্তরের ধারায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে।

এনার্জি ইনস্টিটিউট-এর মঙ্গলবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করতে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কাজ করেছে এম্বার, কার্নি ইনস্টিটিউট এবং কেপিএমজি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে কয়লার ব্যবহার ১০ শতাংশ বেড়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে যাওয়ার বৈশ্বিক প্রচেষ্টার বিপরীতে এটি একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন।

এক দশকের প্রবণতা ভেঙেছে যুক্তরাষ্ট্র

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাত থেকে কার্বন নির্গমন বেড়েছে ১ দশমিক ১ শতাংশ। মোট নির্গমনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৮০৬ মিলিয়ন মেট্রিক টনে।

এই বৃদ্ধির এক-তৃতীয়াংশের বেশি এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। এর আগে গত এক দশক ধরে উত্তর আমেরিকায় কার্বন নির্গমন প্রতিবছর গড়ে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ হারে কমছিল। তবে ২০২৫ সালে সেই ধারায় পরিবর্তন আসে।

বিশ্লেষকদের মতে, গ্যাসের বাজারে অস্থিরতা ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান কয়লাভিত্তিক উৎপাদনে ফিরে যায়। এতে দেশটির কার্বন নির্গমন বেড়ে যায়।

নবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদনও বেড়েছে

বিশ্বজুড়ে জ্বালানির চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। ২০২৫ সালে আগের বছরের তুলনায় মোট জ্বালানি সরবরাহ বেড়েছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ।

এই বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে নবায়নযোগ্য শক্তি। বিশ্বে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে ৯ দশমিক ১ শতাংশ। এর মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে সবচেয়ে বেশি—প্রায় ৩০ শতাংশ।

তবে নবায়নযোগ্য শক্তির দ্রুত সম্প্রসারণ সত্ত্বেও বিশ্বের মোট জ্বালানি চাহিদা বৃদ্ধির বড় অংশ এখনো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল।

ইউরোপ ও চীনেও বেড়েছে নির্গমন

২০২৫ সালে ইউরোপের জ্বালানি খাত থেকে কার্বন নির্গমন বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। একই সময়ে চীনে এই নির্গমন বেড়েছে শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুতের চাহিদা সরবরাহের তুলনায় দ্রুত বেড়েছে। এক বছরের ব্যবধানে বৈশ্বিক বিদ্যুৎ চাহিদা বেড়েছে ৩ শতাংশ।

বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধি, ডেটা সেন্টারের সম্প্রসারণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির প্রসার বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ানোর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বেড়েছে তেলের ব্যবহার ও উৎপাদন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বে তেলের ব্যবহার বেড়েছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। দৈনিক তেলের ব্যবহার দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেলে।

এর আগের বছর ২০২৪ সালে তেলের ব্যবহার বৃদ্ধির হার ছিল ১ দশমিক ১ শতাংশ।

একই সময়ে বিশ্বে তেলের উৎপাদন বেড়েছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ।

তবে চীনে পেট্রল ও ডিজেলের ব্যবহার কমেছে। ২০২৪ সালেও দেশটিতে তেলের ব্যবহার কমার প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রসার এবং পরিবহন খাতে পরিবর্তনের কারণে চীনে জ্বালানি তেলের চাহিদা কমছে।

গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে বিভিন্ন অঞ্চলে

২০২৫ সালে ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আমেরিকায় গ্যাসের চাহিদা বেড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউরোপ ও ভারত তাদের গ্যাসের চাহিদার প্রায় অর্ধেকই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পরিবর্তন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর এসব অঞ্চলের নির্ভরতা আরও বেড়েছে।

এনার্জি ইনস্টিটিউটের প্রতিবেদনের সামগ্রিক মূল্যায়ন হলো, নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও বিশ্বে জ্বালানি চাহিদা বৃদ্ধির কারণে কার্বন নির্গমন কমানোর লক্ষ্য এখনো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স