দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদিত মৌসুমি, দেশি ও বিদেশি ফলকে এক ছাদের নিচে তুলে ধরতে রাজধানীতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলা-২০২৬। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশের (কেআইবি) মাঠে আয়োজিত এই মেলায় ফলের প্রদর্শনীর পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে নানা ধরনের ফলভিত্তিক খাবার ও প্রক্রিয়াজাত পণ্যের সমাহার।
মেলার উদ্বোধন করেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। আগামী শনিবার পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এই আয়োজন।
এবারের মেলায় সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ৭৬টি স্টল অংশ নিয়েছে। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, কৃষি সংস্থা এবং উদ্যোক্তারা তাঁদের উৎপাদিত ফল, নতুন জাত, চাষাবাদ প্রযুক্তি ও প্রক্রিয়াজাত পণ্য প্রদর্শন করছেন। দর্শনার্থীরা সরাসরি বিভিন্ন ফল ও ফলজাত পণ্য কেনার সুযোগও পাচ্ছেন।
মেলায় প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে নানা রঙের ফলের সমারোহ। বিশেষ করে আমের বিপুল সংগ্রহ দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। বিভিন্ন জাতের আম ছাড়াও প্রদর্শনীতে রয়েছে কাঁঠাল, আনারস, লিচু, ড্রাগন ফল, অ্যাভোকাডো, রাম্বুটান, থাই লংগান, পার্সিমন, কাজুবাদাম, মাল্টা, সফেদা, লটকন, করমচা, কামরাঙাসহ অসংখ্য পরিচিত ও অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত ফল।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টলে নতুন উদ্ভাবিত ফলের জাতের পাশাপাশি ফল থেকে তৈরি জেলি, আচার, আমসত্ত্ব, চিপস এবং অন্যান্য খাদ্যপণ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। কাঁঠাল ও কলাভিত্তিক বিভিন্ন উদ্ভাবনী খাদ্যও দর্শকদের আগ্রহ কাড়ছে।
মেলার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে কাঁঠাল থেকে তৈরি ব্যতিক্রমী সব খাবার। দর্শনার্থীরা এখানে কাঁঠালের বিরিয়ানি, বার্গার, কাবাব, পেস্ট্রি, পাকোড়া, কাটলেট, পুডিং, কেক, ললিপপ ও বিভিন্ন ধরনের পিঠার প্রদর্শনী দেখতে পাচ্ছেন। পাশাপাশি আম, তরমুজ, ডাব, তাল ও আমলকী থেকে তৈরি নানা মিষ্টান্ন ও শুকনা খাবারও রাখা হয়েছে।
আয়োজকদের মতে, ফলের পুষ্টিগুণ তুলে ধরা এবং ফল প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়ানোই এ আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য। ফলকে শুধু কাঁচা অবস্থায় নয়, বহুমাত্রিক খাদ্যপণ্যে রূপান্তরের সম্ভাবনাও তুলে ধরা হচ্ছে মেলায়।
এ ছাড়া মেলায় অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন নারী উদ্যোক্তাও। তাঁদের মধ্যে কেউ প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করে তৈরি সাবান, কেউবা ফলভিত্তিক স্বাস্থ্যসম্মত পণ্য নিয়ে হাজির হয়েছেন। পরিবেশবান্ধব ও রাসায়নিকমুক্ত পণ্যের প্রতি দর্শনার্থীদের আগ্রহও চোখে পড়ার মতো।
ফলপ্রেমী, কৃষি উদ্যোক্তা ও সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য এই মেলা হয়ে উঠেছে জ্ঞান, স্বাদ ও বৈচিত্র্যের এক মিলনমেলা।